সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দর্শক ও পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়ে যুগের পর যুগ এগিয়ে চলুক ইয়ুথ টেলিভিশন
— খান সেলিম রহমান সত্যের পথে, তরুণদের সঙ্গে—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে জনপ্রিয় আইপি টেলিভিশন ইয়ুথ টেলিভিশন ১০ বছরের গৌরবময় পথচলা পেরিয়ে ১১তম বছরে পদার্পণ করেছে। গণমাধ্যমের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে ইয়ুথ টেলিভিশন পরিবারের সকল সদস্য, উপদেষ্টামণ্ডলী, চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ, সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, কলাকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং অগণিত দর্শক ও পাঠককে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও শুভকামনা।ইয়ুথ টেলিভিশনের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন নয়; বরং এটি এক দশকের অভিজ্ঞতা, কর্মনিষ্ঠা, প্রচেষ্টা, সাফল্য এবং গণমাধ্যমের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মানুষের কাছে সংবাদ ও তথ্য পৌঁছে দেওয়ার যে প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই প্রত্যয় আরও দৃঢ় হোক এবং মানুষের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাক—এই প্রত্যাশা করি।বর্তমান বিশ্বে গণমাধ্যম মানুষের জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংবাদ কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তা, সিদ্ধান্ত, সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই একটি গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বিশ্বাসযোগ্যতা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারত্ব ও নৈতিক অবস্থান। আমি বিশ্বাস করি, ইয়ুথ টেলিভিশন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে দর্শক ও পাঠকের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।আমার প্রত্যাশা, ইয়ুথ টেলিভিশন সব সময় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। গুজব, বিভ্রান্তি কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্যের পরিবর্তে যাচাইকৃত সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।তরুণদের সঙ্গে নিয়ে সত্যের পথে এগিয়ে চলাই হোক ইয়ুথ টেলিভিশনের আগামী দিনের প্রধান অঙ্গীকার। তরুণ সমাজ একটি দেশের প্রাণশক্তি, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং ইতিবাচক উদ্যোগকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আমি আশা করি, ইয়ুথ টেলিভিশন তরুণ সাংবাদিক, সংবাদকর্মী ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীল গণমাধ্যমচর্চার একটি কার্যকর ক্ষেত্র হিসেবে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করবে।একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, সম্ভাবনা, সমস্যা, সাফল্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সংবাদ ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ইয়ুথ টেলিভিশন আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা তুলে ধরা, জনদুর্ভোগ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দায়িত্বশীলভাবে প্রকাশ করা এবং ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা একটি গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ইয়ুথ টেলিভিশন মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে—এমনটাই আমার বিশ্বাস।একটি গণমাধ্যমের সাফল্য কখনো একক প্রচেষ্টায় অর্জিত হয় না। এর পেছনে থাকে পরিচালনা পর্ষদের দূরদর্শী পরিকল্পনা, উপদেষ্টামণ্ডলীর পরামর্শ, চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেতৃত্ব, সাংবাদিকদের নিরলস পরিশ্রম, কলাকুশলীদের দক্ষতা, বিজ্ঞাপনদাতাদের সহযোগিতা এবং দর্শক ও পাঠকদের ভালোবাসা। ইয়ুথ টেলিভিশনের এক দশকের পথচলায় যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানটির আগামী দিনের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে বলে আমি আশাবাদী।প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে গণমাধ্যমের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং দর্শকের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও পেশাগত উৎকর্ষ বাড়ানোর বিকল্প নেই। আমি আশা করি, ইয়ুথ টেলিভিশন আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মাণ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন এবং দর্শকবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্তে ইয়ুথ টেলিভিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, প্রতিনিধি ও কলাকুশলীর প্রতি আমার আহ্বান—সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে পাথেয় করে এগিয়ে চলুন। পেশাগত মান বজায় রেখে মানুষের আস্থা অর্জন করুন এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখুন। মনে রাখতে হবে, একটি গণমাধ্যমের প্রকৃত অর্জন শুধু তার সম্প্রচার বা দর্শকসংখ্যায় নয়; বরং মানুষের বিশ্বাস, গ্রহণযোগ্যতা এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির মধ্যেই নিহিত।আমি ইয়ুথ টেলিভিশনের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী অগ্রযাত্রা কামনা করছি। প্রতিষ্ঠানটি তার লক্ষ্য ও আদর্শে অবিচল থেকে আগামী দিনে আরও উন্নত, আধুনিক, জনপ্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। সত্যের পক্ষে, মানুষের কল্যাণে এবং তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা বিকাশে ইয়ুথ টেলিভিশনের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হোক।ইয়ুথ টেলিভিশনের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দর্শক ও পাঠকের প্রিয় হয়ে যুগের পর যুগ বেঁচে থাকুক ইয়ুথ টেলিভিশন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি পেরিয়ে যাক আরও বহু গৌরবময় বছর—এই শুভকামনা রইল।শুভ হোক ইয়ুথ টেলিভিশনের আগামী দিনের প্রতিটি পদক্ষেপ।সত্যের পথে, তরুণদের সঙ্গে—অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক নিরন্তর।শুভেচ্ছান্তে,খান সেলিম রহমানপ্রধান উপদেষ্টা, ইয়ুথ টেলিভিশনসম্পাদক, দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকাসভাপতি, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C), কেন্দ্রীয় কমিটি।
৫ মিনিট আগে