কুমিল্লায় কমেছে চুরি, বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা
কুমিল্লায় সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবর মাসে সার্বিক অপরাধের মামলা কমেছে। জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৬৫১টি মামলা হলেও অক্টোবর মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬১৪টিতে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মামলার সংখ্যা কমেছে ৩৭টি। তবে সার্বিকভাবে মামলা কমলেও নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অস্ত্র আইনে মামলার সংখ্যা বেড়েছে।রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে কুমিল্লা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলার অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার। সভার শুরুতে গত মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাফর সাদিক চৌধুরী।সভার শুরুরে কার্যপত্র বিশ্লেষণ করে অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে চুরির ঘটনায়। সেপ্টেম্বরে জেলায় ৮৮টি চুরির মামলা হলেও অক্টোবরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। এক মাসের ব্যবধানে চুরির মামলা কমেছে ৫৩টি।এছাড়া সেপ্টেম্বরে ৫টি দস্যুতার মামলা হলেও অক্টোবরে হয়েছে ৪টি। দাঙ্গার ঘটনায় সেপ্টেম্বরে একটি মামলা থাকলেও অক্টোবরে কোনো মামলা হয়নি। খুনের ঘটনাও কমেছে। সেপ্টেম্বরে ১৬টি খুনের মামলা হলেও অক্টোবরে তা কমে হয়েছে ১৩টি। ডাকাতির ঘটনায় অবশ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। দুই মাসেই ৩টি করে মামলা হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর, কোনো মাসেই মামলা করা হয়। অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে এ-সংক্রান্ত ৩৪টি মামলা হলেও অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩টিতে। অর্থাৎ এক মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা বেড়েছে ৯টি। অস্ত্র আইনে মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এ আইনে ৪টি মামলা হলেও অক্টোবরে হয়েছে ৫টি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার সংখ্যা অবশ্য কমেছে। সেপ্টেম্বরে এ আইনে ৩০৫টি মামলা হলেও অক্টোবরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৮টিতে। অর্থাৎ এক মাসে মাদকসংক্রান্ত মামলা কমেছে ২৭টি। দ্রুত বিচার আইনে সেপ্টেম্বরে একটি মামলা হলেও অক্টোবরে কোনো মামলা হয়নি।তবে অপহরণের ঘটনায় সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে একটি মামলা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে অপহরণের কোনো মামলা না থাকলেও অক্টোবরে একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধে সেপ্টেম্বরে ২৩৮টি মামলা হলেও অক্টোবরে তা কমে ২৩২টিতে দাঁড়িয়েছে।জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৬৫১টি মামলা হয়। অক্টোবরে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬১৪টিতে। সব মিলিয়ে অক্টোবর মাসে সেপ্টেম্বরের তুলনায় মামলার সংখ্যা কমেছে ৩৭টি।এসময়, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মুক্ত আলোচনায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়।জেলা প্রশাসক মিজ রোজি আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই মিলে মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে অবৈধ চালক ও অপরাধে জড়িতদের সহজে শনাক্ত করা যায়।শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিয়ে না আসে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের খেলাধুলা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।যানজট নিরসনে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। শীত মৌসুমে মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।এলপিজি সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ভরাটের ক্ষেত্রেও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি কাইয়ুমুল হক রিংকু, কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, রেড ক্রিসেন্ট কুমিল্লা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জামিল আহমেদ খন্দকার, কুমিল্লার জমিন সম্পাদক শাহাজাদা এমরানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
১৪ মিনিট আগে