দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

কবি, কথা-সাহিত্যিক, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : "রূপ সাগরের ঢেউ"রূপ সাগরের ঢেউ -মাধুরী ব্যানার্জী



কবি, কথা-সাহিত্যিক, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : "রূপ সাগরের ঢেউ"রূপ সাগরের ঢেউ -মাধুরী ব্যানার্জী
কবি, কথা-সাহিত্যিক, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : "রূপ সাগরের ঢেউ"রূপ সাগরের ঢেউ -মাধুরী ব্যানার্জী

শহরের ব্যস্ততা থেকে বহু দূরে ছোট্ট এক সমুদ্রতীরের গ্রাম—নীলপুর। সেখানে প্রতিদিন ভোরে সমুদ্রের ঢেউ এসে বালির বুকে লিখে যেত অজস্র গল্প, আবার ফিরে যাওয়ার সময় মুছে দিত সবকিছু।

সেই গ্রামেই থাকত শতরূপা। সমুদ্রের মতোই তার মন—গভীর, অথচ শান্ত। ছোটবেলা থেকেই সে ঢেউয়ের সঙ্গে কথা বলত। তার বিশ্বাস ছিল, সমুদ্র মানুষের মনের কথা শুনতে পারে।

একদিন বিকেলে সমুদ্রতীরে বসে শতরূপা দেখল, দূরে এক তরুণ বালিতে ছবি আঁকছে। নাম তার অয়ন। শহর থেকে এসেছে সমুদ্রের ছবি আঁকতে। কিন্তু অয়নের আঁকা ছবিতে সমুদ্রের সৌন্দর্যের চেয়ে মানুষের অপেক্ষাই যেন বেশি ফুটে উঠছিল।

শতরূপা জিজ্ঞেস করল,

—“আপনি সমুদ্র আঁকছেন, অথচ ঢেউয়ের মধ্যে এত বিষণ্ণতা কেন?”

অয়ন মৃদু হেসে বলল,

—“কারণ ঢেউ যতই তীরে আসুক, তাকে আবার ফিরে যেতে হয়।”

শতরূপা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

—“ফিরে যাওয়া মানেই কি হারিয়ে যাওয়া?”

অয়ন তার দিকে তাকাল। প্রশ্নটির উত্তর সে দিতে পারল না।

তারপর থেকে প্রতিদিন বিকেলে তাদের দেখা হতে লাগল। কখনও কথা, কখনও নীরবতা—সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে কাছে আসতে লাগল।

কিন্তু একদিন অয়ন জানাল, তাকে শহরে ফিরে যেতে হবে। তার জীবনের দায়িত্ব, কাজ—সবকিছু অপেক্ষা করছে।

শতরূপার বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। তবু সে বলল,

—“ঢেউ তো ফিরে যায়, আবার আসেও।”

অয়ন বলল,

—“যদি ফিরে আসতে পারি?”

শতরূপা সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,

—“তাহলে এই তীরে আমি থাকব।”

অয়ন চলে গেল।

দিন গেল, মাস গেল। শতরূপা প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেই একই জায়গায় এসে বসত। গ্রামের মানুষ তাকে বলত, “অপেক্ষা করে কী লাভ?”

শতরূপা শুধু হাসত।

এক বর্ষার সন্ধ্যায় আকাশ কালো হয়ে এসেছিল। সমুদ্র উত্তাল। হঠাৎ শতরূপা দেখল, ঢেউয়ের ফেনার ওপারে একজন দাঁড়িয়ে আছে।

অয়ন।

তার হাতে সেই পুরোনো ছবিটি—যেখানে সমুদ্রের বুকে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে, আর তার দিকে এগিয়ে আসছে এক বিশাল ঢেউ।

অয়ন কাছে এসে বলল,

—“ছবিটা শেষ করতে পারিনি। কারণ বুঝেছিলাম, ছবির মেয়েটিকে ছাড়া এই সমুদ্র অসম্পূর্ণ।”

শতরূপার চোখে জল এসে গেল।

সেদিন সমুদ্রের ঢেউ আরও জোরে তীরে আছড়ে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল, এতদিনের অপেক্ষার সব শব্দ তারা একসঙ্গে উচ্চারণ করছে।

শতরূপা বুঝল—রূপ শুধু চোখে দেখা সৌন্দর্যের নাম নয়। সত্যিকারের রূপ লুকিয়ে থাকে অপেক্ষায়, বিশ্বাসে আর ফিরে আসার প্রতিশ্রুতিতে।

সমুদ্রের ঢেউ যেমন বারবার তীরে ফিরে আসে, তেমনি সত্যিকারের ভালোবাসাও কখনও হারিয়ে যায় না।

শুধু সময়ের স্রোতে একটু দূরে সরে থাকে—

তারপর একদিন ফিরে আসে,

রূপ সাগরের ঢেউ হয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


কবি, কথা-সাহিত্যিক, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : "রূপ সাগরের ঢেউ"রূপ সাগরের ঢেউ -মাধুরী ব্যানার্জী

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শহরের ব্যস্ততা থেকে বহু দূরে ছোট্ট এক সমুদ্রতীরের গ্রাম—নীলপুর। সেখানে প্রতিদিন ভোরে সমুদ্রের ঢেউ এসে বালির বুকে লিখে যেত অজস্র গল্প, আবার ফিরে যাওয়ার সময় মুছে দিত সবকিছু।

সেই গ্রামেই থাকত শতরূপা। সমুদ্রের মতোই তার মন—গভীর, অথচ শান্ত। ছোটবেলা থেকেই সে ঢেউয়ের সঙ্গে কথা বলত। তার বিশ্বাস ছিল, সমুদ্র মানুষের মনের কথা শুনতে পারে।

একদিন বিকেলে সমুদ্রতীরে বসে শতরূপা দেখল, দূরে এক তরুণ বালিতে ছবি আঁকছে। নাম তার অয়ন। শহর থেকে এসেছে সমুদ্রের ছবি আঁকতে। কিন্তু অয়নের আঁকা ছবিতে সমুদ্রের সৌন্দর্যের চেয়ে মানুষের অপেক্ষাই যেন বেশি ফুটে উঠছিল।

শতরূপা জিজ্ঞেস করল,

—“আপনি সমুদ্র আঁকছেন, অথচ ঢেউয়ের মধ্যে এত বিষণ্ণতা কেন?”

অয়ন মৃদু হেসে বলল,

—“কারণ ঢেউ যতই তীরে আসুক, তাকে আবার ফিরে যেতে হয়।”

শতরূপা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

—“ফিরে যাওয়া মানেই কি হারিয়ে যাওয়া?”

অয়ন তার দিকে তাকাল। প্রশ্নটির উত্তর সে দিতে পারল না।

তারপর থেকে প্রতিদিন বিকেলে তাদের দেখা হতে লাগল। কখনও কথা, কখনও নীরবতা—সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে কাছে আসতে লাগল।

কিন্তু একদিন অয়ন জানাল, তাকে শহরে ফিরে যেতে হবে। তার জীবনের দায়িত্ব, কাজ—সবকিছু অপেক্ষা করছে।

শতরূপার বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। তবু সে বলল,

—“ঢেউ তো ফিরে যায়, আবার আসেও।”

অয়ন বলল,

—“যদি ফিরে আসতে পারি?”

শতরূপা সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,

—“তাহলে এই তীরে আমি থাকব।”

অয়ন চলে গেল।

দিন গেল, মাস গেল। শতরূপা প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেই একই জায়গায় এসে বসত। গ্রামের মানুষ তাকে বলত, “অপেক্ষা করে কী লাভ?”

শতরূপা শুধু হাসত।

এক বর্ষার সন্ধ্যায় আকাশ কালো হয়ে এসেছিল। সমুদ্র উত্তাল। হঠাৎ শতরূপা দেখল, ঢেউয়ের ফেনার ওপারে একজন দাঁড়িয়ে আছে।

অয়ন।

তার হাতে সেই পুরোনো ছবিটি—যেখানে সমুদ্রের বুকে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে, আর তার দিকে এগিয়ে আসছে এক বিশাল ঢেউ।

অয়ন কাছে এসে বলল,

—“ছবিটা শেষ করতে পারিনি। কারণ বুঝেছিলাম, ছবির মেয়েটিকে ছাড়া এই সমুদ্র অসম্পূর্ণ।”

শতরূপার চোখে জল এসে গেল।

সেদিন সমুদ্রের ঢেউ আরও জোরে তীরে আছড়ে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল, এতদিনের অপেক্ষার সব শব্দ তারা একসঙ্গে উচ্চারণ করছে।

শতরূপা বুঝল—রূপ শুধু চোখে দেখা সৌন্দর্যের নাম নয়। সত্যিকারের রূপ লুকিয়ে থাকে অপেক্ষায়, বিশ্বাসে আর ফিরে আসার প্রতিশ্রুতিতে।

সমুদ্রের ঢেউ যেমন বারবার তীরে ফিরে আসে, তেমনি সত্যিকারের ভালোবাসাও কখনও হারিয়ে যায় না।

শুধু সময়ের স্রোতে একটু দূরে সরে থাকে—

তারপর একদিন ফিরে আসে,

রূপ সাগরের ঢেউ হয়ে।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

প্রধান উপদেষ্টা :
খান সেলিম রহমান (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা
উপদেষ্টাঃ
আওরঙ্গজেব কামাল- (সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার (সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির (দপ্তর সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ জাকির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক হাটিকুমরুল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (সাংগঠনিক সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ সাইদুল ইসলাম আবির সম্পাদক খোলা বার্তা
বার্তা সম্পাদক: লাবনী খাতুন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ লুৎফর রহমান লিটন স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত প্রত্রিকা কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব

চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন Email: dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৯০০৩৩৫৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা