দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

সুপরিচিত,জনপ্রিয় কবি ও কথা-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: মিলন বাঁশির সুর মিলন বাঁশির সুর মাধুরী ব্যানার্জী



সুপরিচিত,জনপ্রিয় কবি ও কথা-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: মিলন বাঁশির সুর মিলন বাঁশির সুর মাধুরী ব্যানার্জী
সুপরিচিত,জনপ্রিয় কবি ও কথা-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: মিলন বাঁশির সুর মিলন বাঁশির সুর মাধুরী ব্যানার্জী

নদীর ধারে ছোট্ট একটি গ্রাম—শিউলিপুর। গ্রামের শেষ প্রান্তে ছিল পুরোনো এক বটগাছ। তার নিচে বসেই প্রতিদিন বিকেলে বাঁশি বাজাত রুদ্র। তার বাঁশির সুরে কখনও ভেসে আসত বর্ষার গন্ধ, কখনও শরতের নীল আকাশ, আবার কখনও যেন হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতি।

রুদ্রের বাবা ছিলেন গ্রামের বাঁশিওয়ালা। মৃত্যুর আগে তিনি ছেলেকে বলেছিলেন,

“বাঁশির সুর শুধু গান নয় রে, মানুষের মনকে কাছে আনার পথ। এমন সুর বাজাবি, যাতে দূরের মানুষও একদিন কাছে আসতে চায়।”

বাবার সেই কথা রুদ্র মনে রেখেছিল।

কিন্তু শিউলিপুরে তখন অদ্ভুত এক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নদীর ওপারের গ্রামের সঙ্গে বহুদিনের জমিজমা নিয়ে বিবাদ। এক গ্রামের মানুষ অন্য গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলত না। উৎসব বন্ধ, যাতায়াত বন্ধ—এমনকি নদীর ঘাটটিও যেন দুই গ্রামের মাঝখানে এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

একদিন সন্ধ্যায় রুদ্র বটগাছের নিচে বসে বাঁশি ধরল। সেদিন সে এমন একটি সুর তুলল, যা আগে কখনও বাজায়নি।

সুরটি ধীরে ধীরে নদীর ওপারে পৌঁছাল।

ওপারের গ্রামের এক বৃদ্ধ থমকে দাঁড়ালেন। বহু বছর আগে তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে শেষবার দেখা হওয়ার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সুরের মধ্যে তিনি যেন শুনতে পেলেন হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের ডাক।

পরদিন তিনি নৌকা নিয়ে নদী পার হলেন।

এদিকে শিউলিপুরের কয়েকজন মানুষও ঘাটে এসে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমে কেউ কথা বলল না। তারপর বৃদ্ধটি ধীরে ধীরে বললেন,

“জমির সীমানা নিয়ে আমরা এতদিন লড়েছি, কিন্তু মানুষের সম্পর্কের সীমানা কে টেনেছিল?”

কথাটি যেন সবার বুকের দরজা খুলে দিল।

দু-গ্রামের প্রবীণরা বসে কথা বললেন। পুরোনো ভুল বোঝাবুঝির অনেকটাই মিটে গেল। যে ঘাট এতদিন বিচ্ছেদের প্রতীক ছিল, সেখানেই শুরু হলো নতুন করে যাতায়াত।

সেদিন সন্ধ্যায় আবার রুদ্র বাঁশি বাজাল।

নদীর দুই পারে একসঙ্গে জ্বলে উঠল প্রদীপ।

রুদ্রের মনে হলো, তার বাবার কথার সত্যিকারের অর্থ আজ সে বুঝতে পেরেছে—সুরের কাজ শুধু কান ভরানো নয়, হৃদয়ের বন্ধ দরজায় আলতো করে কড়া নাড়া।

তার বাঁশির সুর নদীর ওপর দিয়ে ভেসে চলল।

সে সুরের নাম হয়ে গেল—মিলন বাঁশির সুর।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


সুপরিচিত,জনপ্রিয় কবি ও কথা-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: মিলন বাঁশির সুর মিলন বাঁশির সুর মাধুরী ব্যানার্জী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নদীর ধারে ছোট্ট একটি গ্রাম—শিউলিপুর। গ্রামের শেষ প্রান্তে ছিল পুরোনো এক বটগাছ। তার নিচে বসেই প্রতিদিন বিকেলে বাঁশি বাজাত রুদ্র। তার বাঁশির সুরে কখনও ভেসে আসত বর্ষার গন্ধ, কখনও শরতের নীল আকাশ, আবার কখনও যেন হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতি।

রুদ্রের বাবা ছিলেন গ্রামের বাঁশিওয়ালা। মৃত্যুর আগে তিনি ছেলেকে বলেছিলেন,

“বাঁশির সুর শুধু গান নয় রে, মানুষের মনকে কাছে আনার পথ। এমন সুর বাজাবি, যাতে দূরের মানুষও একদিন কাছে আসতে চায়।”

বাবার সেই কথা রুদ্র মনে রেখেছিল।

কিন্তু শিউলিপুরে তখন অদ্ভুত এক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নদীর ওপারের গ্রামের সঙ্গে বহুদিনের জমিজমা নিয়ে বিবাদ। এক গ্রামের মানুষ অন্য গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলত না। উৎসব বন্ধ, যাতায়াত বন্ধ—এমনকি নদীর ঘাটটিও যেন দুই গ্রামের মাঝখানে এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

একদিন সন্ধ্যায় রুদ্র বটগাছের নিচে বসে বাঁশি ধরল। সেদিন সে এমন একটি সুর তুলল, যা আগে কখনও বাজায়নি।

সুরটি ধীরে ধীরে নদীর ওপারে পৌঁছাল।

ওপারের গ্রামের এক বৃদ্ধ থমকে দাঁড়ালেন। বহু বছর আগে তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে শেষবার দেখা হওয়ার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সুরের মধ্যে তিনি যেন শুনতে পেলেন হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের ডাক।

পরদিন তিনি নৌকা নিয়ে নদী পার হলেন।

এদিকে শিউলিপুরের কয়েকজন মানুষও ঘাটে এসে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমে কেউ কথা বলল না। তারপর বৃদ্ধটি ধীরে ধীরে বললেন,

“জমির সীমানা নিয়ে আমরা এতদিন লড়েছি, কিন্তু মানুষের সম্পর্কের সীমানা কে টেনেছিল?”

কথাটি যেন সবার বুকের দরজা খুলে দিল।

দু-গ্রামের প্রবীণরা বসে কথা বললেন। পুরোনো ভুল বোঝাবুঝির অনেকটাই মিটে গেল। যে ঘাট এতদিন বিচ্ছেদের প্রতীক ছিল, সেখানেই শুরু হলো নতুন করে যাতায়াত।

সেদিন সন্ধ্যায় আবার রুদ্র বাঁশি বাজাল।

নদীর দুই পারে একসঙ্গে জ্বলে উঠল প্রদীপ।

রুদ্রের মনে হলো, তার বাবার কথার সত্যিকারের অর্থ আজ সে বুঝতে পেরেছে—সুরের কাজ শুধু কান ভরানো নয়, হৃদয়ের বন্ধ দরজায় আলতো করে কড়া নাড়া।

তার বাঁশির সুর নদীর ওপর দিয়ে ভেসে চলল।

সে সুরের নাম হয়ে গেল—মিলন বাঁশির সুর।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

প্রধান উপদেষ্টা :
খান সেলিম রহমান (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা
উপদেষ্টাঃ
আওরঙ্গজেব কামাল- (সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার (সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির (দপ্তর সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ জাকির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক হাটিকুমরুল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (সাংগঠনিক সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ সাইদুল ইসলাম আবির সম্পাদক খোলা বার্তা
বার্তা সম্পাদক: লাবনী খাতুন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ লুৎফর রহমান লিটন স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত প্রত্রিকা কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব

চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন Email: dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৯০০৩৩৫৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা