দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

টুঙ্গিপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা।ছাদ-দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, চলন্ত ফ্যান খুলে পড়েছিল ছাত্রীর মাথায়; নতুন ভবনের দাবি



টুঙ্গিপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা।ছাদ-দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, চলন্ত ফ্যান খুলে পড়েছিল ছাত্রীর মাথায়; নতুন ভবনের দাবি
টুঙ্গিপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা।ছাদ-দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, চলন্ত ফ্যান খুলে পড়েছিল ছাত্রীর মাথায়; নতুন ভবনের দাবি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাশুড়িয়া সেনেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র একাডেমিক ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত লাইট-ফ্যান নেই। মাঠে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই ক্লাস করতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও ইট-বালু নিচে পড়ে আছে। এতে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে চলন্ত একটি ফ্যান খুলে এক ছাত্রীর মাথার ওপর পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন কোনো ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে পুরোনো ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সাদিয়া বলে, ‘শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে খুব ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী যুথী আক্তার ও মনি আক্তার বলে, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি জরাজীর্ণ। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যবস্থা করা দরকার।’

নবম শ্রেণির আমিন শেখ ও দশম শ্রেণির আলিম শেখ জানায়, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত লাইট ও ফ্যান নেই। মাঠের পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এর মধ্যে ভবনের প্লাস্টার খসে পড়ায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে।

নবম শ্রেণির আছিয়া ও দশম শ্রেণির নিশাত খান বলে, ‘আমাদের বিদ্যালয় এবার এসএসসি পরীক্ষায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অথচ প্রতিনিয়ত ভবনের ছাদ, দেয়াল ও ফ্যান খসে পড়ার ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হোক।’

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা বলছেন, ভালো ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়টি এলাকায় সুনাম অর্জন করলেও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিদায়ী এসএসসি পরীক্ষায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করলেও অবকাঠামোগত সংকটে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি জাহাঙ্গীর কবির বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনের বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। দ্রুত সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলায় সেরা ফলাফল করা সত্ত্বেও ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ ও দেয়াল থেকে প্রতিনিয়ত প্লাস্টার ঝরে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীরা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে থাকে। নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দ্রুত সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছি।’

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে ভবনটি সংস্কার অথবা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত না হলে বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


টুঙ্গিপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা।ছাদ-দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, চলন্ত ফ্যান খুলে পড়েছিল ছাত্রীর মাথায়; নতুন ভবনের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাশুড়িয়া সেনেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র একাডেমিক ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত লাইট-ফ্যান নেই। মাঠে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই ক্লাস করতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও ইট-বালু নিচে পড়ে আছে। এতে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে চলন্ত একটি ফ্যান খুলে এক ছাত্রীর মাথার ওপর পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন কোনো ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে পুরোনো ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সাদিয়া বলে, ‘শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে খুব ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী যুথী আক্তার ও মনি আক্তার বলে, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি জরাজীর্ণ। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যবস্থা করা দরকার।’

নবম শ্রেণির আমিন শেখ ও দশম শ্রেণির আলিম শেখ জানায়, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত লাইট ও ফ্যান নেই। মাঠের পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এর মধ্যে ভবনের প্লাস্টার খসে পড়ায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে।

নবম শ্রেণির আছিয়া ও দশম শ্রেণির নিশাত খান বলে, ‘আমাদের বিদ্যালয় এবার এসএসসি পরীক্ষায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অথচ প্রতিনিয়ত ভবনের ছাদ, দেয়াল ও ফ্যান খসে পড়ার ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হোক।’

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা বলছেন, ভালো ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়টি এলাকায় সুনাম অর্জন করলেও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিদায়ী এসএসসি পরীক্ষায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করলেও অবকাঠামোগত সংকটে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি জাহাঙ্গীর কবির বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনের বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। দ্রুত সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলায় সেরা ফলাফল করা সত্ত্বেও ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ ও দেয়াল থেকে প্রতিনিয়ত প্লাস্টার ঝরে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীরা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে থাকে। নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দ্রুত সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছি।’

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে ভবনটি সংস্কার অথবা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত না হলে বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

প্রধান উপদেষ্টা :
খান সেলিম রহমান (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা
উপদেষ্টাঃ
আওরঙ্গজেব কামাল- (সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার (সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির (দপ্তর সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ জাকির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক হাটিকুমরুল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (সাংগঠনিক সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ সাইদুল ইসলাম আবির সম্পাদক খোলা বার্তা
বার্তা সম্পাদক: লাবনী খাতুন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ লুৎফর রহমান লিটন স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত প্রত্রিকা কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব

চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন Email: dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৯০০৩৩৫৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা