দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

তাহিরপুরে গুদাম থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করার অভিযোগ



তাহিরপুরে গুদাম থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করার অভিযোগ
তাহিরপুরে গুদাম থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করার অভিযোগ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ ঘটনায় মো. নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযুক্তদের দাবি, লুটপাট নয়, বকেয়া ভাড়া না দেওয়ায় গুদামঘর খালি করে মালামাল অন্যত্র রাখা হয়েছে।


অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন-উত্তর বড়দল ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম, তার ছেলে আবুল কালাম আজাদ ও আবুল হাসান এবং আবুল কালাম আজাদের ছেলে তারিকুল ইসলাম।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাসির উদ্দিন বাদাঘাট বাজারে তাজুল ইসলাম মার্কেটে প্রায় ১১ বছর ধরে মেসার্স নাসির এলুমিনিয়াম অ্যান্ড প্লাস্টিক ফার্নিচার নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। মার্কেটের বিপরীত গলিতে তার একটি গুদামঘর ছিল। সেখানে ব্যবসার প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র রাখা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, পরবর্তীতে মার্কেটটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হলে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাদাঘাট বাজারের হাসপাতাল রোডে স্থানান্তর করেন। তবে আগের গুদামঘরটি তিনি মালামাল রাখার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন।


গত ১৬ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে গুদাম থেকে ব্যবসার মালামাল আনতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, গুদামে তার লাগানো তালা নেই। সেখানে নতুন তালা লাগানো রয়েছে। বিষয়টি বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে নতুন তালা খুলে গুদামে প্রবেশ করে মালামাল ও আসবাবপত্র পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।


অভিযোগে আরও বলা হয়, গুদামে নতুন তালা লাগানো এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা গুদামে কোনো মালামাল থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে বাজারের নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ২টার মধ্যে আবুল কালাম আজাদসহ কয়েকজনকে পিকআপ ও অটোরিকশাযোগে গুদাম থেকে মালামাল নিয়ে যেতে দেখেছেন। এ ঘটনার ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের দাবি, গুদামঘরটি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাধিকার-স্বত্ব সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাকে গুদামঘর থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


সোমবার (১৭ আগস্ট) নাসির উদ্দিন বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই আমার একমাত্র সম্বল। তারা আমার গুদাম থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। বাজার ও উপজেলার সালিশকারীরা বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েকবার তারিখ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি। তাই আইনি সহায়তা চাইছি।


অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, সে দীর্ঘদিন আমার ঘরে ব্যবসা করছে। তার কাছে প্রায় দেড় বছরের ঘরভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া চাইলে সে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মালামাল সরিয়ে ঘর খালি করে দিতে বললে সে বলে, পারলে ঘর খালি করতে। তাই বাধ্য হয়ে ঘর খালি করে তার মালামাল অন্যত্র রেখে দিয়েছি। লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।


বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, নাসিরের গুদাম থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সত্য। আমরা বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা সম্ভব হবে।


তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, বাদাঘাট বাজারের গুদামঘর থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই পক্ষেরই দুটি অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সময় চেয়েছেন। তাই আপাতত বিষয়টি সেভাবেই রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


তাহিরপুরে গুদাম থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ ঘটনায় মো. নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযুক্তদের দাবি, লুটপাট নয়, বকেয়া ভাড়া না দেওয়ায় গুদামঘর খালি করে মালামাল অন্যত্র রাখা হয়েছে।


অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন-উত্তর বড়দল ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম, তার ছেলে আবুল কালাম আজাদ ও আবুল হাসান এবং আবুল কালাম আজাদের ছেলে তারিকুল ইসলাম।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাসির উদ্দিন বাদাঘাট বাজারে তাজুল ইসলাম মার্কেটে প্রায় ১১ বছর ধরে মেসার্স নাসির এলুমিনিয়াম অ্যান্ড প্লাস্টিক ফার্নিচার নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। মার্কেটের বিপরীত গলিতে তার একটি গুদামঘর ছিল। সেখানে ব্যবসার প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র রাখা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, পরবর্তীতে মার্কেটটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হলে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাদাঘাট বাজারের হাসপাতাল রোডে স্থানান্তর করেন। তবে আগের গুদামঘরটি তিনি মালামাল রাখার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন।


গত ১৬ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে গুদাম থেকে ব্যবসার মালামাল আনতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, গুদামে তার লাগানো তালা নেই। সেখানে নতুন তালা লাগানো রয়েছে। বিষয়টি বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে নতুন তালা খুলে গুদামে প্রবেশ করে মালামাল ও আসবাবপত্র পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।


অভিযোগে আরও বলা হয়, গুদামে নতুন তালা লাগানো এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা গুদামে কোনো মালামাল থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে বাজারের নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ২টার মধ্যে আবুল কালাম আজাদসহ কয়েকজনকে পিকআপ ও অটোরিকশাযোগে গুদাম থেকে মালামাল নিয়ে যেতে দেখেছেন। এ ঘটনার ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের দাবি, গুদামঘরটি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাধিকার-স্বত্ব সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাকে গুদামঘর থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


সোমবার (১৭ আগস্ট) নাসির উদ্দিন বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই আমার একমাত্র সম্বল। তারা আমার গুদাম থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। বাজার ও উপজেলার সালিশকারীরা বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েকবার তারিখ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি। তাই আইনি সহায়তা চাইছি।


অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, সে দীর্ঘদিন আমার ঘরে ব্যবসা করছে। তার কাছে প্রায় দেড় বছরের ঘরভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া চাইলে সে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মালামাল সরিয়ে ঘর খালি করে দিতে বললে সে বলে, পারলে ঘর খালি করতে। তাই বাধ্য হয়ে ঘর খালি করে তার মালামাল অন্যত্র রেখে দিয়েছি। লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।


বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, নাসিরের গুদাম থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সত্য। আমরা বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা সম্ভব হবে।


তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, বাদাঘাট বাজারের গুদামঘর থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই পক্ষেরই দুটি অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সময় চেয়েছেন। তাই আপাতত বিষয়টি সেভাবেই রাখা হয়েছে।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

প্রধান উপদেষ্টা :
খান সেলিম রহমান (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা
উপদেষ্টাঃ
আওরঙ্গজেব কামাল- (সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার (সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির (দপ্তর সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ জাকির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক হাটিকুমরুল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (সাংগঠনিক সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ সাইদুল ইসলাম আবির সম্পাদক খোলা বার্তা
বার্তা সম্পাদক: লাবনী খাতুন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ লুৎফর রহমান লিটন স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত প্রত্রিকা কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব

চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন Email: dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৯০০৩৩৫৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা