আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট চলছে। রাজধানী প্যারিস ডাস্টবিন দিয়ে রাস্তা আটকে দেয় ছাত্র ও জনতা। তবে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় দাঙ্গা পুলিশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, বামপন্থি শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-সহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে এই ধর্মঘট ও বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন করে ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এই ধর্মঘটের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে প্যারিস ও লিওসহ বিভিন্ন শহরে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
রয়টার্স জানায়, লিও শহরে একটি বিক্ষোভে সামনে থেকে কয়েকজনকে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের কারও কারও মুখ ঢাকা ছিল এবং পরনে ছিল কালো পোশাক। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ। সেই সঙ্গে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জও করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র পাঁচ মাস আগে নতুন করে এই অস্থিরতা শুরু হলো। ওই নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী মেরিন লা পেনের মুখোমুখি হতে পারেন কট্টর বামপন্থি নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পক্ষে সংবিধান অনুযায়ী আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজ শহরের কাছে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএফএম টিভি। এর আগে প্যারিসে শিক্ষার্থী ও অন্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। সকালে সড়কে ময়লার পাত্র ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা।
লিও, মার্সেই ও নঁতের মতো শহরে সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু হলেও প্যারিসের মূল কর্মসূচি স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে শুরু হওয়ার কথা। ধর্মঘটের কারণে বৃহস্পতিবার আইফেল টাওয়ারও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
সিজিটি প্রধান সোফি বেনে এলসিআই টেলিভিশনকে বলেন, ‘আজ রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি জানান, ফ্রান্সের ২৬০টি শহর ও এলাকায় বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। লিও শহর এক বিক্ষোভে একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পেনশনভোগী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শ্রমিক, সবাই একসঙ্গে। ঐক্যই জয়ী হয়।’
নিরাপত্তায় ৭০ হাজার পুলিশ
গত ১৭ অক্টোবরের দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে বিভিন্ন দোকান ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংকট মোকাবিলায় মাক্রোঁ সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়।
নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে এবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, প্যারিসের বাইরে বিভিন্ন বিক্ষোভে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন।
ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। তবে পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট শিক্ষক-কর্মীর ১৫ শতাংশের কিছু বেশি ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের উদ্বেগের বড় কারণ। প্যারিসের ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী ইরমা দ্য বানভিল বলেন, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে পুলিশের সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকেই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না।
অন্যদিকে ফরাসি সরকার পুলিশের কৌশল ও পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট চলছে। রাজধানী প্যারিস ডাস্টবিন দিয়ে রাস্তা আটকে দেয় ছাত্র ও জনতা। তবে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় দাঙ্গা পুলিশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, বামপন্থি শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-সহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে এই ধর্মঘট ও বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন করে ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এই ধর্মঘটের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে প্যারিস ও লিওসহ বিভিন্ন শহরে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
রয়টার্স জানায়, লিও শহরে একটি বিক্ষোভে সামনে থেকে কয়েকজনকে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের কারও কারও মুখ ঢাকা ছিল এবং পরনে ছিল কালো পোশাক। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ। সেই সঙ্গে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জও করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র পাঁচ মাস আগে নতুন করে এই অস্থিরতা শুরু হলো। ওই নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী মেরিন লা পেনের মুখোমুখি হতে পারেন কট্টর বামপন্থি নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পক্ষে সংবিধান অনুযায়ী আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজ শহরের কাছে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএফএম টিভি। এর আগে প্যারিসে শিক্ষার্থী ও অন্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। সকালে সড়কে ময়লার পাত্র ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা।
লিও, মার্সেই ও নঁতের মতো শহরে সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু হলেও প্যারিসের মূল কর্মসূচি স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে শুরু হওয়ার কথা। ধর্মঘটের কারণে বৃহস্পতিবার আইফেল টাওয়ারও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
সিজিটি প্রধান সোফি বেনে এলসিআই টেলিভিশনকে বলেন, ‘আজ রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি জানান, ফ্রান্সের ২৬০টি শহর ও এলাকায় বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। লিও শহর এক বিক্ষোভে একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পেনশনভোগী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শ্রমিক, সবাই একসঙ্গে। ঐক্যই জয়ী হয়।’
নিরাপত্তায় ৭০ হাজার পুলিশ
গত ১৭ অক্টোবরের দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে বিভিন্ন দোকান ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংকট মোকাবিলায় মাক্রোঁ সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়।
নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে এবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, প্যারিসের বাইরে বিভিন্ন বিক্ষোভে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন।
ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। তবে পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট শিক্ষক-কর্মীর ১৫ শতাংশের কিছু বেশি ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের উদ্বেগের বড় কারণ। প্যারিসের ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী ইরমা দ্য বানভিল বলেন, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে পুলিশের সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকেই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না।
অন্যদিকে ফরাসি সরকার পুলিশের কৌশল ও পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন