দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

রুশ সেনা কর্মকর্তার তথ্যেই ইউক্রেনের হামলায় নিহত ৩০০ সেনা, পরে পালিয়ে কিয়েভে



রুশ সেনা কর্মকর্তার তথ্যেই ইউক্রেনের হামলায় নিহত ৩০০ সেনা, পরে পালিয়ে কিয়েভে
রুশ সেনা কর্মকর্তার তথ্যেই ইউক্রেনের হামলায় নিহত ৩০০ সেনা, পরে পালিয়ে কিয়েভে

রাশিয়ার এক সেনা কর্মকর্তা গোপনে ইউক্রেনকে সামরিক তথ্য ও যুদ্ধের পরিকল্পনা সরবরাহ করে দেশটির ৩০০-এর বেশি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পরে সম্মুখযুদ্ধের রণরেখা পেরিয়ে ইউক্রেনে পালিয়ে যান ২৬ বছর বয়সী ওই কর্মকর্তা। এরপর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি ইউনিটে যোগ দেন তিনি।ওই কর্মকর্তার নাম লেফটেন্যান্ট লেভ স্তুপনিকভ। রুশ সেনাবাহিনীতে নিজের অবস্থান কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের কাছে সেনাদের অবস্থান, চলাচল, যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং নজরদারি ড্রোন ও ক্যামেরার তথ্য পাঠাতেন তিনি। তবে তার এই গোপন তৎপরতার ব্যক্তিগত মূল্যও দিতে হয়েছে। ইউক্রেনে পালানোর পর স্তুপনিকভের সঙ্গে তার স্ত্রী লিজার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বামীকে রাশিয়া ও তাদের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করেন লিজা।হামলার আগে পেটব্যথার অভিনয়


বুদিয়োনি মিলিটারি একাডেমি অব দ্য সিগন্যাল কর্পসের সাবেক শিক্ষার্থী স্তুপনিকভকে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে রুশ বাহিনীর প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি উগলেদার দখলের দায়িত্বে থাকা একটি ব্যাটালিয়নের যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।


তার দায়িত্ব ছিল কমান্ডারদের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটের যোগাযোগ সচল রাখা এবং নজরদারি ব্যবস্থার তথ্য নিশ্চিত করা। কিন্তু গোপনে তিনি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের কাছে রুশ সেনাদের অবস্থান ও পরিকল্পিত গতিবিধির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাঠাতেন।পূর্ব ইউক্রেনের এক হিমশীতল সকালে সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে সরে যেতে পেটব্যথার অভিনয় করেন স্তুপনিকভ। এর কিছুক্ষণ পরই ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র তার পাঠানো লোকেশনে আঘাত হানে।


ওই হামলায় ৬৮ জন রুশ সেনা নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন কর্নেল গুসেইন মুসায়েভ, যিনি ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় আরও ৬০ জন আহত হন।


হামলার পর ইউক্রেনের এক যোগাযোগকারী তাকে বার্তা পাঠান, “বিস্ফোরণ হয়েছে? একটা ছবি পাঠাও। জবাবে স্তুপনিকভ লেখেন, শুধু মাংস পড়ে আছে।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের জন্য তথ্য সংগ্রহের বৃহত্তর একটি গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ ছিলেন স্তুপনিকভ। এই নেটওয়ার্কে রুশ সেনাসদস্য থেকে শুরু করে গৃহিণী পর্যন্ত হাজারো মানুষ এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইউক্রেনের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন বদলে দেয় তার অবস্থান


নিজ দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কাজ করার সিদ্ধান্তের পেছনে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধিতা কাজ করেছে বলে জানান স্তুপনিকভ।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর সময় ইউক্রেনের শহরগুলোর ওপর দিয়ে রুশ হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার এবং বোমা বিস্ফোরণের ভিডিও দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি।


স্তুপনিকভ বলেন, তারা নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা ফেলছিল। এটা ছিল অশুভ।


যুদ্ধ চলার মধ্যেও সহযোদ্ধারা কীভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন, তা বুঝতে পারতেন না তিনি। বাড়িতে স্ত্রী লিজার সঙ্গে রুশ বিরোধী নেতাদের ভিডিও ও ইউক্রেনের হাতে বন্দি রুশ যুদ্ধবন্দিদের সাক্ষাৎকার দেখতেন।


সামরিক একাডেমিতেও তার মতো চিন্তাভাবনার কয়েকজন ক্যাডেট ছিলেন। তারা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারতেন। তাদের কেউ কেউ একাডেমি ছাড়ার চেষ্টা করলেও সেই আবেদন মাসের পর মাস ঝুলে ছিল।


স্তুপনিকভ বলেন, আমি আমার আবেগ প্রকাশ করতে পারতাম না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জ্বলছিলাম।


ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন মা


স্তুপনিকভের মা তাতিয়ানা ইয়ানৎসেনও পুতিনের বিরোধী ছিলেন। ৪৯ বছর বয়সী এই অফিসকর্মী পুতিনের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তার ছেলে সম্মুখযুদ্ধে যোগ দেওয়ার তিন মাস পর, তাতিয়ানা ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা কম্পিউটার প্রোগ্রামার দিমিত্রো কারপেঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।


এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রুশ তথ্যদাতাদের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন কারপেঙ্কো। ইউটিউবে রুশ যুদ্ধবন্দিদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেও পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন রুশ সেনা দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে সামরিক তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।


২০২৩ সালের অক্টোবরে কারপেঙ্কো ইউক্রেনের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য তথ্য দিতে আগ্রহী রুশ সেনাসদস্যদের ২ লাখ ৫০ হাজার রুবল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন।


এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত স্তুপনিকভের পালানোর পরিকল্পনা করা হয়। এনক্রিপ্ট করা অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি, কারপেঙ্কো ও ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদস্যরা বিপজ্জনক সম্মুখরেখা পেরিয়ে যাওয়ার পথ ঠিক করেন।


যেভাবে সম্মুখরেখা পেরিয়ে পালান


২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাতে নিজের রুশ ইউনিট থেকে পালিয়ে ইউক্রেনীয় অবস্থানের দিকে উত্তরে রওনা হন স্তুপনিকভ। একটি ভূগর্ভস্থ বাংকার থেকে সরাসরি ভিডিওর মাধ্যমে ইউক্রেনীয় সদস্যরা তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।


প্রায় ৪০ মিনিট পর তিনি এমন একটি গাছপালাঘেরা এলাকায় পৌঁছান, যেখানে ইউক্রেনের ৭২তম ব্রিগেডের সেনারা অবস্থান করছিলেন।


রুশ সামরিক পোশাক পরা একজনকে নিজেদের অবস্থানের দিকে আসতে দেখে ইউক্রেনীয় সেনারা তাকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করেন। একটি বাংকার থেকে উঁকি দিয়ে তারা জানতে চান, সংকেতবাক্য কী?


আগে থেকে ঠিক করে রাখ চিনাবাদামের দোকান বলে উত্তর স্তুপনিকভ। এরপর তাকে ইউক্রেনীয় হেফাজতে নেওয়া হয়।


পরে তিনি রাশিয়ান ভলান্টিয়ার কর্পসে (আরভিসি) যোগ দেন। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর এই ইউনিটটি জাতিগতভাবে রুশ সদস্যদের নিয়ে গঠিত এবং পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বর্তমানে স্তুপনিকভ সেখানে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।


পরিবারের সদস্যদেরও ইউক্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা


২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্তুপনিকভের মা ও বোন একট

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


রুশ সেনা কর্মকর্তার তথ্যেই ইউক্রেনের হামলায় নিহত ৩০০ সেনা, পরে পালিয়ে কিয়েভে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাশিয়ার এক সেনা কর্মকর্তা গোপনে ইউক্রেনকে সামরিক তথ্য ও যুদ্ধের পরিকল্পনা সরবরাহ করে দেশটির ৩০০-এর বেশি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পরে সম্মুখযুদ্ধের রণরেখা পেরিয়ে ইউক্রেনে পালিয়ে যান ২৬ বছর বয়সী ওই কর্মকর্তা। এরপর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি ইউনিটে যোগ দেন তিনি।ওই কর্মকর্তার নাম লেফটেন্যান্ট লেভ স্তুপনিকভ। রুশ সেনাবাহিনীতে নিজের অবস্থান কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের কাছে সেনাদের অবস্থান, চলাচল, যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং নজরদারি ড্রোন ও ক্যামেরার তথ্য পাঠাতেন তিনি। তবে তার এই গোপন তৎপরতার ব্যক্তিগত মূল্যও দিতে হয়েছে। ইউক্রেনে পালানোর পর স্তুপনিকভের সঙ্গে তার স্ত্রী লিজার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বামীকে রাশিয়া ও তাদের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করেন লিজা।হামলার আগে পেটব্যথার অভিনয়


বুদিয়োনি মিলিটারি একাডেমি অব দ্য সিগন্যাল কর্পসের সাবেক শিক্ষার্থী স্তুপনিকভকে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে রুশ বাহিনীর প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি উগলেদার দখলের দায়িত্বে থাকা একটি ব্যাটালিয়নের যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।


তার দায়িত্ব ছিল কমান্ডারদের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটের যোগাযোগ সচল রাখা এবং নজরদারি ব্যবস্থার তথ্য নিশ্চিত করা। কিন্তু গোপনে তিনি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের কাছে রুশ সেনাদের অবস্থান ও পরিকল্পিত গতিবিধির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাঠাতেন।পূর্ব ইউক্রেনের এক হিমশীতল সকালে সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে সরে যেতে পেটব্যথার অভিনয় করেন স্তুপনিকভ। এর কিছুক্ষণ পরই ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র তার পাঠানো লোকেশনে আঘাত হানে।


ওই হামলায় ৬৮ জন রুশ সেনা নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন কর্নেল গুসেইন মুসায়েভ, যিনি ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় আরও ৬০ জন আহত হন।


হামলার পর ইউক্রেনের এক যোগাযোগকারী তাকে বার্তা পাঠান, “বিস্ফোরণ হয়েছে? একটা ছবি পাঠাও। জবাবে স্তুপনিকভ লেখেন, শুধু মাংস পড়ে আছে।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের জন্য তথ্য সংগ্রহের বৃহত্তর একটি গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ ছিলেন স্তুপনিকভ। এই নেটওয়ার্কে রুশ সেনাসদস্য থেকে শুরু করে গৃহিণী পর্যন্ত হাজারো মানুষ এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইউক্রেনের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন বদলে দেয় তার অবস্থান


নিজ দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কাজ করার সিদ্ধান্তের পেছনে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধিতা কাজ করেছে বলে জানান স্তুপনিকভ।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর সময় ইউক্রেনের শহরগুলোর ওপর দিয়ে রুশ হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার এবং বোমা বিস্ফোরণের ভিডিও দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি।


স্তুপনিকভ বলেন, তারা নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা ফেলছিল। এটা ছিল অশুভ।


যুদ্ধ চলার মধ্যেও সহযোদ্ধারা কীভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন, তা বুঝতে পারতেন না তিনি। বাড়িতে স্ত্রী লিজার সঙ্গে রুশ বিরোধী নেতাদের ভিডিও ও ইউক্রেনের হাতে বন্দি রুশ যুদ্ধবন্দিদের সাক্ষাৎকার দেখতেন।


সামরিক একাডেমিতেও তার মতো চিন্তাভাবনার কয়েকজন ক্যাডেট ছিলেন। তারা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারতেন। তাদের কেউ কেউ একাডেমি ছাড়ার চেষ্টা করলেও সেই আবেদন মাসের পর মাস ঝুলে ছিল।


স্তুপনিকভ বলেন, আমি আমার আবেগ প্রকাশ করতে পারতাম না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জ্বলছিলাম।


ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন মা


স্তুপনিকভের মা তাতিয়ানা ইয়ানৎসেনও পুতিনের বিরোধী ছিলেন। ৪৯ বছর বয়সী এই অফিসকর্মী পুতিনের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তার ছেলে সম্মুখযুদ্ধে যোগ দেওয়ার তিন মাস পর, তাতিয়ানা ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা কম্পিউটার প্রোগ্রামার দিমিত্রো কারপেঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।


এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রুশ তথ্যদাতাদের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন কারপেঙ্কো। ইউটিউবে রুশ যুদ্ধবন্দিদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেও পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন রুশ সেনা দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে সামরিক তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।


২০২৩ সালের অক্টোবরে কারপেঙ্কো ইউক্রেনের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য তথ্য দিতে আগ্রহী রুশ সেনাসদস্যদের ২ লাখ ৫০ হাজার রুবল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন।


এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত স্তুপনিকভের পালানোর পরিকল্পনা করা হয়। এনক্রিপ্ট করা অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি, কারপেঙ্কো ও ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদস্যরা বিপজ্জনক সম্মুখরেখা পেরিয়ে যাওয়ার পথ ঠিক করেন।


যেভাবে সম্মুখরেখা পেরিয়ে পালান


২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাতে নিজের রুশ ইউনিট থেকে পালিয়ে ইউক্রেনীয় অবস্থানের দিকে উত্তরে রওনা হন স্তুপনিকভ। একটি ভূগর্ভস্থ বাংকার থেকে সরাসরি ভিডিওর মাধ্যমে ইউক্রেনীয় সদস্যরা তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।


প্রায় ৪০ মিনিট পর তিনি এমন একটি গাছপালাঘেরা এলাকায় পৌঁছান, যেখানে ইউক্রেনের ৭২তম ব্রিগেডের সেনারা অবস্থান করছিলেন।


রুশ সামরিক পোশাক পরা একজনকে নিজেদের অবস্থানের দিকে আসতে দেখে ইউক্রেনীয় সেনারা তাকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করেন। একটি বাংকার থেকে উঁকি দিয়ে তারা জানতে চান, সংকেতবাক্য কী?


আগে থেকে ঠিক করে রাখ চিনাবাদামের দোকান বলে উত্তর স্তুপনিকভ। এরপর তাকে ইউক্রেনীয় হেফাজতে নেওয়া হয়।


পরে তিনি রাশিয়ান ভলান্টিয়ার কর্পসে (আরভিসি) যোগ দেন। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর এই ইউনিটটি জাতিগতভাবে রুশ সদস্যদের নিয়ে গঠিত এবং পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বর্তমানে স্তুপনিকভ সেখানে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।


পরিবারের সদস্যদেরও ইউক্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা


২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্তুপনিকভের মা ও বোন একট


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা আপনার গোপনীয়তাকে সম্মান করে। ১. আমরা আপনার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করি না। ২. আমাদের সাইটে গুগল এডসেন্স এবং ফেসবুক পিক্সেল ব্যবহার করা হয়, যা কুকি (Cookie) এর মাধ্যমে আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা উন্নত করে। ৩. আপনি চাইলে ব্রাউজার থেকে কুকি বন্ধ করতে পারেন। ৪. আমাদের সাইটে প্রকাশিত সকল সংবাদের কপিরাইট দৈনিক আলোকিত সলঙ্গার। কোনো প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করুন: dailyalokitosolanga@gmail.com
চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন | Email: dailyalokitosolanga@gmail.com | মোবাইল: ০১৭১১৪৫৪০১৮, ০১৮১১১৯৭৮৪১ কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা