যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।গ্রেপ্তাররা হলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং দুই চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২)।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এর ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি। অনুসন্ধানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৪-১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য উৎস, সরবরাহের ধাপ, বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণকারীদের তথ্য উঠে আসে।
তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত বুধবার রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) এবং মো. হাসানুর রহমান সুজন নামে তিনজনকে মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যে এই চক্রের আরও ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসে জড়িত এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর আসাদুল ইসলামকে রাজধানীর উত্তরখান ও মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের মোবাইলের চ্যাট হিস্ট্রি পর্যালোচনায় জানা যায়, প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা এনবিআরের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত নূর মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার এসআরবি-৪ কর্তৃক সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে শুক্রবার এসআরবি-৩ এর একটি অভিযানিক দল মোহাম্মদপুর থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রশ্নপত্র ছড়ানোর বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তারদের মোবাইল ফোনের চ্যাট পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পান। এরপর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। পরবর্তীতে নূর মোহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। তারপর প্রশ্নপত্র ও উত্তর চক্রের সদস্য ও তাদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এসআরবির এই কর্মকর্তা জানান, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। তবে প্রশ্নপত্র প্রথম কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।গ্রেপ্তাররা হলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং দুই চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২)।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এর ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি। অনুসন্ধানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৪-১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য উৎস, সরবরাহের ধাপ, বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণকারীদের তথ্য উঠে আসে।
তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত বুধবার রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) এবং মো. হাসানুর রহমান সুজন নামে তিনজনকে মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যে এই চক্রের আরও ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসে জড়িত এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর আসাদুল ইসলামকে রাজধানীর উত্তরখান ও মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের মোবাইলের চ্যাট হিস্ট্রি পর্যালোচনায় জানা যায়, প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা এনবিআরের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত নূর মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার এসআরবি-৪ কর্তৃক সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে শুক্রবার এসআরবি-৩ এর একটি অভিযানিক দল মোহাম্মদপুর থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রশ্নপত্র ছড়ানোর বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তারদের মোবাইল ফোনের চ্যাট পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পান। এরপর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। পরবর্তীতে নূর মোহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। তারপর প্রশ্নপত্র ও উত্তর চক্রের সদস্য ও তাদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এসআরবির এই কর্মকর্তা জানান, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। তবে প্রশ্নপত্র প্রথম কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন