পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জমিতে প্রয়োগ করার সময় বিষক্রিয়ায় হাতে পচন ধরেছে আশরাফ আলী (৪৫) নামের একজন কৃষকের। চিকিৎসক তার আঙুল কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বলে জানিয়েছেন আশরাফের স্ত্রী জনিফা।আশরাফ উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামের বাসিন্দা। নিরক্ষর ও দরিদ্র আশরাফ ১২ দিন আগে পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের আব্দুল জব্বারের কীটনাশকের দোকান থেকে ৩৩ মাস আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া কীটনাশক কিনেছিলেন। এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফ আলীকে থানায় নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এলাকার কিছু বখাটে যুবকের ভয়ে থানায় মামলা দিতে পারেননি বলে আশরাফের স্ত্রী জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক আশরাফ এ বছর বেতুয়ান গ্রামে জমিতে স্বর্ণা ধানের আবাদ করেছেন।
জমিতে মাঝরা পোকা দমনের জন্য গত ১৫ অক্টোবর শরৎনগর বাজারে অবস্থিত আব্দুল জব্বারের কীটনাশকের দোকান থেকে কার্টাপ্রিড নামের একটি দানাদার কীটনাশক ক্রয় করেন। পরের দিন জমিতে ব্যবহার করার জন্য কীটনাশক খোলা হাতে পানিতে মিশ্রণ করার সময় হাতে আঠালো হয়ে আটকে যায়। তাৎক্ষণিক বাড়িতে এসে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেন আশরাফ।
এর পরেও হাতে চুলকানি ও জ্বালাপোড়াসহ ফুলে যেতে থাকে। এ অবস্থায় পরদিন আশরাফ তার স্ত্রীকে নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থা সংকটাপন্ন মনে করে চিকিৎসক আশরাফকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রায় ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অর্থ সংকটে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
গতকাল রাতে অসুস্থ আশরাফ বাড়ি ফিরলে গ্রামবাসীর পরামর্শে কীটনাশকের ডিলার আব্দুল জব্বারের দোকানে আসেন এবং তার অভিযোগ জানান।
এ সময় আব্দুল জব্বার আশরাফের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। কিন্তু আশরাফের পরিবার বিষয়টি না মেনে জব্বারের সঙ্গে বাগবিতান্ডায় জড়িয়ে পড়েন।অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন।প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সার-কীটনাশক ডিলার আব্দুল জব্বার পালিয়ে যান। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফ আলীকে থানায় গিয়ে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন এবং তৎক্ষণিক ওসিকে মামলা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে আশরাফ আলী ও তার স্ত্রী থানায় মামলা করার জন্য জব্বার আলীর দোকান থেকে রওনা দিলে পথে কিছু বখাটে যুবক তাদের আটকে রাখে। বখাটেরা মামলা না করতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এতে ভয়ে আশরাফ ও তার স্ত্রী মামলা না করে বাড়ি ফিরে যান। আশরাফ আলীর স্ত্রী জনিফা খাতুন বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কীটনাশকের মেয়াদ শেষ হয়। আমার স্বামী নিরক্ষর বলে সেটা বুঝতে পারেনি। এটা ব্যবহার করে হাতের আঙুল পচে গেছে। ডাক্তার বলেছে আঙুল কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু আমার অনুরোধে তিনি আরেকটু সময় চিকিৎসা দিয়ে পড়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, এসি ল্যান্ডের নির্দেশে মামলা করতে গেলে এলাকার কিছু ছেলে মামলা করতে দেয়নি এবং হুমকিধামকি দিয়েছে। আমরা দরিদ্র মানুষ তাই ভয়ে মামলা করতে যাইনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান বলেন, ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলারকে পাওয়া যায়নি। তাই ভুক্তভোগীকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কীটনাশক ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা থানায় আসেনি। এর পরও খোঁজখবর নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জমিতে প্রয়োগ করার সময় বিষক্রিয়ায় হাতে পচন ধরেছে আশরাফ আলী (৪৫) নামের একজন কৃষকের। চিকিৎসক তার আঙুল কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বলে জানিয়েছেন আশরাফের স্ত্রী জনিফা।আশরাফ উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামের বাসিন্দা। নিরক্ষর ও দরিদ্র আশরাফ ১২ দিন আগে পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের আব্দুল জব্বারের কীটনাশকের দোকান থেকে ৩৩ মাস আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া কীটনাশক কিনেছিলেন। এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফ আলীকে থানায় নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এলাকার কিছু বখাটে যুবকের ভয়ে থানায় মামলা দিতে পারেননি বলে আশরাফের স্ত্রী জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক আশরাফ এ বছর বেতুয়ান গ্রামে জমিতে স্বর্ণা ধানের আবাদ করেছেন।
জমিতে মাঝরা পোকা দমনের জন্য গত ১৫ অক্টোবর শরৎনগর বাজারে অবস্থিত আব্দুল জব্বারের কীটনাশকের দোকান থেকে কার্টাপ্রিড নামের একটি দানাদার কীটনাশক ক্রয় করেন। পরের দিন জমিতে ব্যবহার করার জন্য কীটনাশক খোলা হাতে পানিতে মিশ্রণ করার সময় হাতে আঠালো হয়ে আটকে যায়। তাৎক্ষণিক বাড়িতে এসে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেন আশরাফ।
এর পরেও হাতে চুলকানি ও জ্বালাপোড়াসহ ফুলে যেতে থাকে। এ অবস্থায় পরদিন আশরাফ তার স্ত্রীকে নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থা সংকটাপন্ন মনে করে চিকিৎসক আশরাফকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রায় ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অর্থ সংকটে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
গতকাল রাতে অসুস্থ আশরাফ বাড়ি ফিরলে গ্রামবাসীর পরামর্শে কীটনাশকের ডিলার আব্দুল জব্বারের দোকানে আসেন এবং তার অভিযোগ জানান।
এ সময় আব্দুল জব্বার আশরাফের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। কিন্তু আশরাফের পরিবার বিষয়টি না মেনে জব্বারের সঙ্গে বাগবিতান্ডায় জড়িয়ে পড়েন।অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন।প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সার-কীটনাশক ডিলার আব্দুল জব্বার পালিয়ে যান। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফ আলীকে থানায় গিয়ে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন এবং তৎক্ষণিক ওসিকে মামলা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে আশরাফ আলী ও তার স্ত্রী থানায় মামলা করার জন্য জব্বার আলীর দোকান থেকে রওনা দিলে পথে কিছু বখাটে যুবক তাদের আটকে রাখে। বখাটেরা মামলা না করতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এতে ভয়ে আশরাফ ও তার স্ত্রী মামলা না করে বাড়ি ফিরে যান। আশরাফ আলীর স্ত্রী জনিফা খাতুন বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কীটনাশকের মেয়াদ শেষ হয়। আমার স্বামী নিরক্ষর বলে সেটা বুঝতে পারেনি। এটা ব্যবহার করে হাতের আঙুল পচে গেছে। ডাক্তার বলেছে আঙুল কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু আমার অনুরোধে তিনি আরেকটু সময় চিকিৎসা দিয়ে পড়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, এসি ল্যান্ডের নির্দেশে মামলা করতে গেলে এলাকার কিছু ছেলে মামলা করতে দেয়নি এবং হুমকিধামকি দিয়েছে। আমরা দরিদ্র মানুষ তাই ভয়ে মামলা করতে যাইনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান বলেন, ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলারকে পাওয়া যায়নি। তাই ভুক্তভোগীকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কীটনাশক ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা থানায় আসেনি। এর পরও খোঁজখবর নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন