দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার *মাধুরী ব্যানার্জীর* লেখা অণুগল্প : *অন্তর্লীন অনুরণন *অন্তর্লীন অনুরণন*মাধুরী ব্যানার্জী*



কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার *মাধুরী ব্যানার্জীর* লেখা অণুগল্প : *অন্তর্লীন অনুরণন *অন্তর্লীন অনুরণন*মাধুরী ব্যানার্জী*
সুপরিচিত কবি, কথা-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, গল্পকার, সম্পাদিকা, ঔপন্যাসিক, কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার *মাধুরী ব্যানার্জীর* লেখা অণুগল্প : *অন্তর্লীন অনুরণন* *অন্তর্লীন অনুরণন* *মাধুরী ব্যানার্জী*

সুপরিচিত কবি, কথা-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, গল্পকার, সম্পাদিকা, ঔপন্যাসিক, কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার *মাধুরী ব্যানার্জীর* লেখা অণুগল্প : *অন্তর্লীন অনুরণন*


*অন্তর্লীন অনুরণন*

                *মাধুরী ব্যানার্জী*


শহরের এক প্রান্তে পুরোনো একটি বাড়ি। বাড়িটির জানালায় সারাদিন রোদ পড়ে, অথচ ঘরের ভেতরটা যেন সবসময় একটু অন্ধকার। সেই বাড়িতেই একা থাকত অরুণিমা।

বাইরের মানুষ তাকে দেখলে বলত, “মেয়েটা বড় শান্ত!”

কিন্তু কেউ জানত না, সেই শান্ত মুখের আড়ালে কত কথার ঢেউ প্রতিদিন আছড়ে পড়ে।

অরুণিমার অভ্যাস ছিল রাতে ঘুমোবার আগে পুরোনো ডায়েরিটা খুলে বসা। ডায়েরির পাতায় লেখা থাকত ছোট ছোট বাক্য—

“সব কথা বলা যায় না।”

“কিছু মানুষ দূরে গিয়েও থেকে যায়।”

“কিছু শব্দ কানে শোনা যায় না, শুধু মনে বাজে।”

একদিন ডায়েরির শেষ পাতায় সে লিখল—

“যদি কোনোদিন কেউ আমার না-বলা কথাগুলো পড়তে পারে, তবে সে-ই বুঝবে আমাকে।”

তারপর ডায়েরিটা বন্ধ করে জানালার পাশে রেখে দিল।

পরদিন সকালে ডাকপিয়ন একটি চিঠি দিয়ে গেল। প্রেরকের নাম নেই। কাঁপা হাতে খাম খুলে অরুণিমা দেখল, মাত্র একটিই বাক্য—

“তুমি যা বলতে পারোনি, আমি তা শুনেছি।”

অরুণিমার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।

চিঠির সঙ্গে ছিল একটি পুরোনো শুকনো শিউলি ফুল।

সে ফুলটি চিনতে পারল। বহু বছর আগে স্কুলের শেষ দিনে, তার প্রিয় শিক্ষক অনিরুদ্ধ স্যার তাকে বলেছিলেন—

“অরুণিমা, মানুষের সবচেয়ে গভীর কথাগুলো সবসময় শব্দ হয়ে বেরোয় না। কখনও কখনও নীরবতাই সবচেয়ে জোরে কথা বলে।”

সেদিনের পর স্যার অন্য শহরে চলে গিয়েছিলেন।

অরুণিমা চিঠিটা আবার পড়ল। তারপর বহুদিন পর ডায়েরির পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে থেমে গেল একটি পুরোনো পাতায়।

সেখানে লেখা—

“আজ স্যার বললেন, নিজের কণ্ঠকে কখনও হারিয়ে ফেলিস না। একদিন তোর লেখা অন্য কারও নীরবতার ভাষা হবে।”

হঠাৎ অরুণিমার মনে হলো, এতদিন সে নিজের ভেতরের শব্দগুলোকে শুধু জমিয়ে রেখেছে। কাউকে শোনায়নি।

সেদিনই সে সিদ্ধান্ত নিল—ডায়েরির পাতাগুলো আর বন্ধ থাকবে না।

সে নিজের লেখা নিয়ে একটি ছোট পত্রিকায় পাঠাল। কয়েক সপ্তাহ পর সেই লেখা প্রকাশিত হলো।

লেখাটির শিরোনাম ছিল— ‘অন্তর্লীন অনুরণন’।

প্রকাশের দিনই অরুণিমার কাছে আরেকটি চিঠি এল।

খাম খুলে সে দেখল, অনিরুদ্ধ স্যারের হাতের লেখা।

“তোর লেখা পড়লাম। তুই অবশেষে নিজের কণ্ঠ খুঁজে পেয়েছিস। মনে রাখিস, সত্যিকারের শব্দ কখনও হারিয়ে যায় না। মানুষের হৃদয়ের গভীরে তারা অনুরণন হয়ে থেকে যায়।”

চিঠিটা বুকে চেপে অরুণিমা জানালার পাশে দাঁড়াল।

বাইরে তখন শিউলি ঝরছে।

কেউ কাছে নেই, তবু তার মনে হলো—দূর কোথাও থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠ যেন বলছে,

“শুনতে পাচ্ছিস তো?”

অরুণিমা মৃদু হেসে উত্তর দিল,

“হ্যাঁ স্যার, এবার আমি নিজের ভেতরের সেই শব্দটাও শুনতে পাচ্ছি।”

সেদিন প্রথমবার তার ঘরটা আর নীরব মনে হলো না।

কারণ কিছু অনুরণন শব্দের বাইরে জন্ম নেয়—

আর হৃদয়ের গভীরে, নিঃশব্দেই, বেঁচে থাকে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার *মাধুরী ব্যানার্জীর* লেখা অণুগল্প : *অন্তর্লীন অনুরণন *অন্তর্লীন অনুরণন*মাধুরী ব্যানার্জী*

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সুপরিচিত কবি, কথা-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, গল্পকার, সম্পাদিকা, ঔপন্যাসিক, কণ্ঠশিল্পী ও ছড়াকার *মাধুরী ব্যানার্জীর* লেখা অণুগল্প : *অন্তর্লীন অনুরণন*


*অন্তর্লীন অনুরণন*

                *মাধুরী ব্যানার্জী*


শহরের এক প্রান্তে পুরোনো একটি বাড়ি। বাড়িটির জানালায় সারাদিন রোদ পড়ে, অথচ ঘরের ভেতরটা যেন সবসময় একটু অন্ধকার। সেই বাড়িতেই একা থাকত অরুণিমা।

বাইরের মানুষ তাকে দেখলে বলত, “মেয়েটা বড় শান্ত!”

কিন্তু কেউ জানত না, সেই শান্ত মুখের আড়ালে কত কথার ঢেউ প্রতিদিন আছড়ে পড়ে।

অরুণিমার অভ্যাস ছিল রাতে ঘুমোবার আগে পুরোনো ডায়েরিটা খুলে বসা। ডায়েরির পাতায় লেখা থাকত ছোট ছোট বাক্য—

“সব কথা বলা যায় না।”

“কিছু মানুষ দূরে গিয়েও থেকে যায়।”

“কিছু শব্দ কানে শোনা যায় না, শুধু মনে বাজে।”

একদিন ডায়েরির শেষ পাতায় সে লিখল—

“যদি কোনোদিন কেউ আমার না-বলা কথাগুলো পড়তে পারে, তবে সে-ই বুঝবে আমাকে।”

তারপর ডায়েরিটা বন্ধ করে জানালার পাশে রেখে দিল।

পরদিন সকালে ডাকপিয়ন একটি চিঠি দিয়ে গেল। প্রেরকের নাম নেই। কাঁপা হাতে খাম খুলে অরুণিমা দেখল, মাত্র একটিই বাক্য—

“তুমি যা বলতে পারোনি, আমি তা শুনেছি।”

অরুণিমার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।

চিঠির সঙ্গে ছিল একটি পুরোনো শুকনো শিউলি ফুল।

সে ফুলটি চিনতে পারল। বহু বছর আগে স্কুলের শেষ দিনে, তার প্রিয় শিক্ষক অনিরুদ্ধ স্যার তাকে বলেছিলেন—

“অরুণিমা, মানুষের সবচেয়ে গভীর কথাগুলো সবসময় শব্দ হয়ে বেরোয় না। কখনও কখনও নীরবতাই সবচেয়ে জোরে কথা বলে।”

সেদিনের পর স্যার অন্য শহরে চলে গিয়েছিলেন।

অরুণিমা চিঠিটা আবার পড়ল। তারপর বহুদিন পর ডায়েরির পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে থেমে গেল একটি পুরোনো পাতায়।

সেখানে লেখা—

“আজ স্যার বললেন, নিজের কণ্ঠকে কখনও হারিয়ে ফেলিস না। একদিন তোর লেখা অন্য কারও নীরবতার ভাষা হবে।”

হঠাৎ অরুণিমার মনে হলো, এতদিন সে নিজের ভেতরের শব্দগুলোকে শুধু জমিয়ে রেখেছে। কাউকে শোনায়নি।

সেদিনই সে সিদ্ধান্ত নিল—ডায়েরির পাতাগুলো আর বন্ধ থাকবে না।

সে নিজের লেখা নিয়ে একটি ছোট পত্রিকায় পাঠাল। কয়েক সপ্তাহ পর সেই লেখা প্রকাশিত হলো।

লেখাটির শিরোনাম ছিল— ‘অন্তর্লীন অনুরণন’।

প্রকাশের দিনই অরুণিমার কাছে আরেকটি চিঠি এল।

খাম খুলে সে দেখল, অনিরুদ্ধ স্যারের হাতের লেখা।

“তোর লেখা পড়লাম। তুই অবশেষে নিজের কণ্ঠ খুঁজে পেয়েছিস। মনে রাখিস, সত্যিকারের শব্দ কখনও হারিয়ে যায় না। মানুষের হৃদয়ের গভীরে তারা অনুরণন হয়ে থেকে যায়।”

চিঠিটা বুকে চেপে অরুণিমা জানালার পাশে দাঁড়াল।

বাইরে তখন শিউলি ঝরছে।

কেউ কাছে নেই, তবু তার মনে হলো—দূর কোথাও থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠ যেন বলছে,

“শুনতে পাচ্ছিস তো?”

অরুণিমা মৃদু হেসে উত্তর দিল,

“হ্যাঁ স্যার, এবার আমি নিজের ভেতরের সেই শব্দটাও শুনতে পাচ্ছি।”

সেদিন প্রথমবার তার ঘরটা আর নীরব মনে হলো না।

কারণ কিছু অনুরণন শব্দের বাইরে জন্ম নেয়—

আর হৃদয়ের গভীরে, নিঃশব্দেই, বেঁচে থাকে।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

প্রধান উপদেষ্টা :
খান সেলিম রহমান (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা
উপদেষ্টাঃ
আওরঙ্গজেব কামাল- (সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার (সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির (দপ্তর সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ জাকির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক হাটিকুমরুল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (সাংগঠনিক সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ সাইদুল ইসলাম আবির সম্পাদক খোলা বার্তা
বার্তা সম্পাদক: লাবনী খাতুন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ লুৎফর রহমান লিটন স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত প্রত্রিকা কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব

চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন Email: dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৯০০৩৩৫৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা