জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে লংড্রাইভ করেছেন’ বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তবে নিজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এনসিপির নেতার দাবি, রাশেদ খাঁন ‘মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন’।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কালবেলার সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, ‘মন্ত্রীপাড়ায় নাহিদ ইসলামের (এনসিপির আহ্বায়ক) বাড়িতে আলোচনার সময় নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী সবসময় বলতো আওয়ামী লীগের বাড়িঘর, ধনসম্পদ দখল করতে হবে। আজকে তার কিছুটা নমুনা পাওয়া গেলো!’
প্রশ্ন তুলে তিনি পোস্টে বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগ নেতার প্যারাডো (প্রাডো) গাড়ি করে লংড্রাইভ করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আওয়ামী লীগ নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কারণে গাড়িটি উপহার দিয়েছে, নাকি আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের খায়েশ থেকে গাড়িটিও দখল করেছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
‘এ বিষয়ে এনসিপি দলীয় কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না,’ তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বলেও পোস্টে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘এটা রাশেদ খাঁনকেই জিজ্ঞেস করেন। যিনি পোস্ট করেছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমি যদি আপনাকে বলি, তাহলে সেটা হচ্ছে—মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।’
এদিকে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে উঠে এসেছে, লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে গাড়িটি ব্যবহার করেছেন, তার মালিক মনিরুল হক ভুঁইয়া, যিনি তুষার ভুঁইয়া নামেও পরিচিত। তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মাদারীপুর সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং পরে ২০২৪ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
তুষার ভুঁইয়ার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, যিনি বাচ্চু ভুঁইয়া নামেও পরিচিত, ১৯৮৮ সালে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। তিনি মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন।
দ্য ডিসেন্টের হাতে আসা বিভিন্ন ছবি ও অন্যান্য তথ্যেও তুষার ভুঁইয়াকে শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেও দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লংমার্চ শুরু হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের একটি বিশাল বহর নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে কুমিল্লা ও ফেনীর পথসভা শেষে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এক জনসভার মাধ্যমে লংমার্চটি সমাপ্ত হয়। সেই বহরে একটি কালো প্রাডো গাড়িতে চড়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।
মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার ও চলমান জনদুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে ১১-দলীয় জোট এই কর্মসূচি পালন করছে। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের তীব্র সংকট দূর করা।
পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং প্রশাসনে মাত্রাতিরিক্ত সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে লংড্রাইভ করেছেন’ বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তবে নিজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এনসিপির নেতার দাবি, রাশেদ খাঁন ‘মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন’।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কালবেলার সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, ‘মন্ত্রীপাড়ায় নাহিদ ইসলামের (এনসিপির আহ্বায়ক) বাড়িতে আলোচনার সময় নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী সবসময় বলতো আওয়ামী লীগের বাড়িঘর, ধনসম্পদ দখল করতে হবে। আজকে তার কিছুটা নমুনা পাওয়া গেলো!’
প্রশ্ন তুলে তিনি পোস্টে বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগ নেতার প্যারাডো (প্রাডো) গাড়ি করে লংড্রাইভ করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আওয়ামী লীগ নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কারণে গাড়িটি উপহার দিয়েছে, নাকি আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের খায়েশ থেকে গাড়িটিও দখল করেছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
‘এ বিষয়ে এনসিপি দলীয় কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না,’ তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বলেও পোস্টে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘এটা রাশেদ খাঁনকেই জিজ্ঞেস করেন। যিনি পোস্ট করেছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমি যদি আপনাকে বলি, তাহলে সেটা হচ্ছে—মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।’
এদিকে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে উঠে এসেছে, লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে গাড়িটি ব্যবহার করেছেন, তার মালিক মনিরুল হক ভুঁইয়া, যিনি তুষার ভুঁইয়া নামেও পরিচিত। তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মাদারীপুর সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং পরে ২০২৪ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
তুষার ভুঁইয়ার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, যিনি বাচ্চু ভুঁইয়া নামেও পরিচিত, ১৯৮৮ সালে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। তিনি মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন।
দ্য ডিসেন্টের হাতে আসা বিভিন্ন ছবি ও অন্যান্য তথ্যেও তুষার ভুঁইয়াকে শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেও দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লংমার্চ শুরু হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের একটি বিশাল বহর নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে কুমিল্লা ও ফেনীর পথসভা শেষে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এক জনসভার মাধ্যমে লংমার্চটি সমাপ্ত হয়। সেই বহরে একটি কালো প্রাডো গাড়িতে চড়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।
মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার ও চলমান জনদুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে ১১-দলীয় জোট এই কর্মসূচি পালন করছে। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের তীব্র সংকট দূর করা।
পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং প্রশাসনে মাত্রাতিরিক্ত সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

আপনার মতামত লিখুন