দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা করলে কঠোর ব্যবস্থা : ডিসি ফরিদা



শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা করলে কঠোর ব্যবস্থা : ডিসি ফরিদা
শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা করলে কঠোর ব্যবস্থা : ডিসি ফরিদা

পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে শ্রমিকের ছদ্মবেশে কেউ নাশকতা, সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা খানম।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সাভার উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।তাই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য শ্রমিকদের ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।


ফরিদা খানম বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ অপপ্রচার চালালে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।


আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে নিয়োজিত করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জরুরি আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; তারা কাজে ফিরতে চান।


তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে।


যেসব পোশাক কারখানা খোলা রয়েছে, সেসব কারখানায় শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মাঠে রয়েছেন।


আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হেলমেট পরে কিংবা বিভিন্ন ছদ্মবেশে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়। প্রকৃত শ্রমিকেরা তাদের জানিয়েছেন, তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন; বরং কাজ করতে চান। কারণ, তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা মজুরির ওপর নির্ভরশীল।


তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার নীতিগতভাবে তাদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের হঠকারিতা, সহিংসতা কিংবা নাশকতা বরদাশত করা হবে না।


এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনগণের সচেতনতার কারণে তারা কোনোভাবেই সফল হতে পারবে না।


তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। কাজেই ষড়যন্ত্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যাবে না। বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই পথ চলছে। শ্রমিকেরা যে দাবি জানিয়েছিলেন, তা পূরণে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং একটি স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।’


এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা করলে কঠোর ব্যবস্থা : ডিসি ফরিদা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে শ্রমিকের ছদ্মবেশে কেউ নাশকতা, সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা খানম।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সাভার উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।তাই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য শ্রমিকদের ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।


ফরিদা খানম বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ অপপ্রচার চালালে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।


আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে নিয়োজিত করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জরুরি আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; তারা কাজে ফিরতে চান।


তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে।


যেসব পোশাক কারখানা খোলা রয়েছে, সেসব কারখানায় শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মাঠে রয়েছেন।


আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হেলমেট পরে কিংবা বিভিন্ন ছদ্মবেশে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়। প্রকৃত শ্রমিকেরা তাদের জানিয়েছেন, তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন; বরং কাজ করতে চান। কারণ, তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা মজুরির ওপর নির্ভরশীল।


তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার নীতিগতভাবে তাদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের হঠকারিতা, সহিংসতা কিংবা নাশকতা বরদাশত করা হবে না।


এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনগণের সচেতনতার কারণে তারা কোনোভাবেই সফল হতে পারবে না।


তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। কাজেই ষড়যন্ত্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যাবে না। বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই পথ চলছে। শ্রমিকেরা যে দাবি জানিয়েছিলেন, তা পূরণে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং একটি স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।’


এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা আপনার গোপনীয়তাকে সম্মান করে। ১. আমরা আপনার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করি না। ২. আমাদের সাইটে গুগল এডসেন্স এবং ফেসবুক পিক্সেল ব্যবহার করা হয়, যা কুকি (Cookie) এর মাধ্যমে আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা উন্নত করে। ৩. আপনি চাইলে ব্রাউজার থেকে কুকি বন্ধ করতে পারেন। ৪. আমাদের সাইটে প্রকাশিত সকল সংবাদের কপিরাইট দৈনিক আলোকিত সলঙ্গার। কোনো প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করুন: dailyalokitosolanga@gmail.com
চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন | Email: dailyalokitosolanga@gmail.com | মোবাইল: ০১৭৫৯০০৩৩৫৮ কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা