সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জে ও বাঙালি হিন্দু (সনাতন) ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অঞ্জলি, আরতি ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে দুর্গােৎসবের প্রতিমা বিসর্জন বিজয় দশমী শেষ হয়। এর আগে বুধবার (২১অক্টোবর-২০২৬খ্রি.)
সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা
এরপর দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ, সিঁদুর খেলা ও অন্যান্য আয়োজন শেষে বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছয় দিনের এ উৎসব। গত শুক্রবার দেবীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কস্থ চৌরাস্তা থেকে সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গোৎসব -২০২৬খ্রি. উপলক্ষে শুভ বিজয়ার বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রার উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভিপি মোঃ শামীম খান, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা নোমান আলাল, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার উপদেষ্টা শ্রী অমর কৃষ্ণ দাস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সুইট, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন রাজেশ সহ জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব অনুষ্ঠানে সার্বিকভাবে দায়িত্ব ছিলেন এবং
শুভেচ্ছা ও স্বাগত বক্তব্যে রাখেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শ্রী সন্তোষ কুমার কানু। এসময়ে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সকল নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, সকল পূজা মন্ডবের নেতৃবৃন্দ, জেলা ও শহরের সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীর সকল শিশু কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী সকল বয়সী নারী-পুরুষেরা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রী সন্তোষ কুমার কানু বলেন, দুপুরের পর শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। বেলা সাড়ে তিনটায় সিরাজগঞ্জ মুজিব সড়কস্থ চৌরাস্তা থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু হয়। আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাকে করে নেওয়া হয়। মুজিব সড়ক চৌরাস্তা থেকে
বাজার হয়ে এস.এস.রোড হয়ে বিএ কলেজ হয়ে ইবি রোড কালিসড়ক দিয়ে গিয়ে সন্ধ্যায় যমুনা নদী ঘাটে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দশমী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। নবমীতে শান্তি ও মঙ্গল কামনা অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় মহানবমীর পূজা ও অঞ্জলি দিয়েছেন ভক্তরা। গতকাল মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কস্থ (মাড়োয়াড়ি পট্টি) শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া মন্দিরে সকাল থেকে পূজারিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, ঢাক ও কাঁসর ঘণ্টার শব্দে চলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজা শেষে অনেকে মন্দির সামনে সড়কের দু'পাশে মেলা ঘুরে কেনাকাটা করেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের সঙ্গে ভক্তরা উলুধ্বনি দেন। কেউ দুই হাত জোড় করে প্রণাম করেন, কেউ দেবী দুর্গার জয়ধ্বনি দেন। বেলা১১টার দিকে ভক্তদের হাতে অঞ্জলির ফুল ও বেলপাতা দেওয়া হয়। সোয়া১১টার দিকে অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পূজার এ পর্ব। এসময়ে শ্রী মানিক সাহা বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে পেরে ভালো লাগছে। সন্তানদের নিয়ে পূজায় আসা শুধু ধর্মীয় আচার পালনের বিষয় নয়, তাদের কাছে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরারও একটি সুযোগ। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সবার জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও মঙ্গল আসুক। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই যেন মিলেমিশে ভালো থাকতে পারি। এবার পূজা উদযাপন আনন্দঘন পরিবেশে, খুব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলো।

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জে ও বাঙালি হিন্দু (সনাতন) ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অঞ্জলি, আরতি ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে দুর্গােৎসবের প্রতিমা বিসর্জন বিজয় দশমী শেষ হয়। এর আগে বুধবার (২১অক্টোবর-২০২৬খ্রি.)
সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা
এরপর দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ, সিঁদুর খেলা ও অন্যান্য আয়োজন শেষে বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছয় দিনের এ উৎসব। গত শুক্রবার দেবীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কস্থ চৌরাস্তা থেকে সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গোৎসব -২০২৬খ্রি. উপলক্ষে শুভ বিজয়ার বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রার উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভিপি মোঃ শামীম খান, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা নোমান আলাল, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার উপদেষ্টা শ্রী অমর কৃষ্ণ দাস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সুইট, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন রাজেশ সহ জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব অনুষ্ঠানে সার্বিকভাবে দায়িত্ব ছিলেন এবং
শুভেচ্ছা ও স্বাগত বক্তব্যে রাখেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শ্রী সন্তোষ কুমার কানু। এসময়ে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সকল নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, সকল পূজা মন্ডবের নেতৃবৃন্দ, জেলা ও শহরের সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীর সকল শিশু কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী সকল বয়সী নারী-পুরুষেরা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রী সন্তোষ কুমার কানু বলেন, দুপুরের পর শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। বেলা সাড়ে তিনটায় সিরাজগঞ্জ মুজিব সড়কস্থ চৌরাস্তা থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু হয়। আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাকে করে নেওয়া হয়। মুজিব সড়ক চৌরাস্তা থেকে
বাজার হয়ে এস.এস.রোড হয়ে বিএ কলেজ হয়ে ইবি রোড কালিসড়ক দিয়ে গিয়ে সন্ধ্যায় যমুনা নদী ঘাটে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দশমী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। নবমীতে শান্তি ও মঙ্গল কামনা অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় মহানবমীর পূজা ও অঞ্জলি দিয়েছেন ভক্তরা। গতকাল মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কস্থ (মাড়োয়াড়ি পট্টি) শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া মন্দিরে সকাল থেকে পূজারিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, ঢাক ও কাঁসর ঘণ্টার শব্দে চলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজা শেষে অনেকে মন্দির সামনে সড়কের দু'পাশে মেলা ঘুরে কেনাকাটা করেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের সঙ্গে ভক্তরা উলুধ্বনি দেন। কেউ দুই হাত জোড় করে প্রণাম করেন, কেউ দেবী দুর্গার জয়ধ্বনি দেন। বেলা১১টার দিকে ভক্তদের হাতে অঞ্জলির ফুল ও বেলপাতা দেওয়া হয়। সোয়া১১টার দিকে অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পূজার এ পর্ব। এসময়ে শ্রী মানিক সাহা বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে পেরে ভালো লাগছে। সন্তানদের নিয়ে পূজায় আসা শুধু ধর্মীয় আচার পালনের বিষয় নয়, তাদের কাছে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরারও একটি সুযোগ। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সবার জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও মঙ্গল আসুক। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই যেন মিলেমিশে ভালো থাকতে পারি। এবার পূজা উদযাপন আনন্দঘন পরিবেশে, খুব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলো।

আপনার মতামত লিখুন