দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

পটলের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা, ১২ বিঘার ফসল হারিয়ে কৃষকের কান্না



পটলের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা, ১২ বিঘার ফসল হারিয়ে কৃষকের কান্না
পটলের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা, ১২ বিঘার ফসল হারিয়ে কৃষকের কান্না

নওগাঁর বদলগাছীতে রাতের আঁধারে প্রায় ১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দিয়েছে কে বা কারা। এতে কয়েকটি কৃষক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে। মাসের পর মাস পরিশ্রম আর ঋণ করে ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা কিন্তু সবকিছু যেন এক রাতেই শেষ হয়ে গেল।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০-১২ জন কৃষকের প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, পটল গাছগুলোতে ফলন আসতে শুরু করেছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০-৫০ মণ পটল তুলে বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। সেই ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা ও বিভিন্ন দেনা পরিশোধের পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। কিন্তু সকালে ক্ষেতে গিয়ে কাটা অবস্থায় গাছ পড়ে থাকতে দেখে মাথায় হাত পড়ে কৃষকদের।


দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কাটা পটলগাছ। কোথাও গাছের গোড়া কেটে দেওয়া হয়েছে, কোথাও মাটিতে লুটিয়ে আছে পুরো লতা। যে জমিতে কয়েক দিন আগেও ছিল সবুজের সমারোহ, সেখানে এখন শুধু ধ্বংসের চিহ্ন।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে পটল চাষ করেছি। সার, ওষুধ, শ্রমিক- সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ফসল বিক্রি করে সংসার চালানোর আশা ছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ করে দিয়েছে। এখন আমাদের কী হবে, জানি না।


আরেক কৃষক ইসরাফিল বলেন, এ ফসলই ছিল আমাদের শেষ সম্বল। গাছগুলো বড় হয়ে উঠেছিল, ফলনও আসছিল। পটল বাজারে বিক্রি শুরু করেছি। সকালে এসে দেখি সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, পরিকল্পিতভাবেই রাতের আঁধারে এসব পটলগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।


স্থানীয়দের ভাষ্য, কৃষকের একটি ফসল নষ্ট হওয়ার অর্থ শুধু জমির ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের আয়-রোজগার ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের সহায়তা করা হোক।


বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো নজরুল ইসলাম বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


পটলের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা, ১২ বিঘার ফসল হারিয়ে কৃষকের কান্না

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর বদলগাছীতে রাতের আঁধারে প্রায় ১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দিয়েছে কে বা কারা। এতে কয়েকটি কৃষক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে। মাসের পর মাস পরিশ্রম আর ঋণ করে ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা কিন্তু সবকিছু যেন এক রাতেই শেষ হয়ে গেল।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০-১২ জন কৃষকের প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, পটল গাছগুলোতে ফলন আসতে শুরু করেছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০-৫০ মণ পটল তুলে বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। সেই ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা ও বিভিন্ন দেনা পরিশোধের পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। কিন্তু সকালে ক্ষেতে গিয়ে কাটা অবস্থায় গাছ পড়ে থাকতে দেখে মাথায় হাত পড়ে কৃষকদের।


দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কাটা পটলগাছ। কোথাও গাছের গোড়া কেটে দেওয়া হয়েছে, কোথাও মাটিতে লুটিয়ে আছে পুরো লতা। যে জমিতে কয়েক দিন আগেও ছিল সবুজের সমারোহ, সেখানে এখন শুধু ধ্বংসের চিহ্ন।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে পটল চাষ করেছি। সার, ওষুধ, শ্রমিক- সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ফসল বিক্রি করে সংসার চালানোর আশা ছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ করে দিয়েছে। এখন আমাদের কী হবে, জানি না।


আরেক কৃষক ইসরাফিল বলেন, এ ফসলই ছিল আমাদের শেষ সম্বল। গাছগুলো বড় হয়ে উঠেছিল, ফলনও আসছিল। পটল বাজারে বিক্রি শুরু করেছি। সকালে এসে দেখি সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, পরিকল্পিতভাবেই রাতের আঁধারে এসব পটলগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।


স্থানীয়দের ভাষ্য, কৃষকের একটি ফসল নষ্ট হওয়ার অর্থ শুধু জমির ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের আয়-রোজগার ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের সহায়তা করা হোক।


বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো নজরুল ইসলাম বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

প্রধান উপদেষ্টা :
খান সেলিম রহমান (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা
উপদেষ্টাঃ
আওরঙ্গজেব কামাল- (সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার (সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির (দপ্তর সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ জাকির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক হাটিকুমরুল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (সাংগঠনিক সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ সাইদুল ইসলাম আবির সম্পাদক খোলা বার্তা
বার্তা সম্পাদক: লাবনী খাতুন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ লুৎফর রহমান লিটন স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত প্রত্রিকা কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব

চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন Email: dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৯০০৩৩৫৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা