দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট



ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট ছবি সংগীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতি ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি; বরং ধীরগতিতে চলাচল করা যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি; বরং ধীরগতিতে চলাচল করা যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে।যানজট নিয়ন্ত্রণে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার একাধিক মোবাইল টিমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।


ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে এই অংশে সংস্কারকাজ চলছে। এরই মধ্যে আশপাশের অংশও ভেঙে যাচ্ছে। যানবাহনের তীব্র চাপ ও দীর্ঘ যানজট নিয়ন্ত্রণে গত তিন দিন ধরে আমাদের সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। দ্রুত সড়ক সংস্কার না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সওজ বিভাগকে বারবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’


শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই কর্মকর্তা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ জরুরি সাময়িক মেরামত কাজ শুরু করেছে। একপাশ দিয়ে যানচলাচল অব্যাহত আছে। ধীরলয়ে যানবাহন চলাচল করছে। তবে যানজট রয়েছে। আমাদের চেষ্টাও অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, কিছুটা ধীরে হলেও যানজট কমবে।


হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, বৃষ্টি হলেই আমতলী এলাকার ভোগান্তি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। গত তিন থেকে চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল সড়কের পাশাপাশি বিকল্প লেনেও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গত দুই দিনে শুধু এই স্থানেই অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়। পরে রেকার দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।


তিনি আরও বলেন, বিষয়টি একাধিকবার সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই যানজট বাড়ছে এবং জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।


যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন ট্রাক ও বাসচালক জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। এতে জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।


যাত্রীরা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।


এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এবং আমতলী অংশের সংস্কারকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতি ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি; বরং ধীরগতিতে চলাচল করা যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি; বরং ধীরগতিতে চলাচল করা যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে।যানজট নিয়ন্ত্রণে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার একাধিক মোবাইল টিমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।


ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে এই অংশে সংস্কারকাজ চলছে। এরই মধ্যে আশপাশের অংশও ভেঙে যাচ্ছে। যানবাহনের তীব্র চাপ ও দীর্ঘ যানজট নিয়ন্ত্রণে গত তিন দিন ধরে আমাদের সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। দ্রুত সড়ক সংস্কার না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সওজ বিভাগকে বারবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’


শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই কর্মকর্তা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ জরুরি সাময়িক মেরামত কাজ শুরু করেছে। একপাশ দিয়ে যানচলাচল অব্যাহত আছে। ধীরলয়ে যানবাহন চলাচল করছে। তবে যানজট রয়েছে। আমাদের চেষ্টাও অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, কিছুটা ধীরে হলেও যানজট কমবে।


হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, বৃষ্টি হলেই আমতলী এলাকার ভোগান্তি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। গত তিন থেকে চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল সড়কের পাশাপাশি বিকল্প লেনেও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গত দুই দিনে শুধু এই স্থানেই অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়। পরে রেকার দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।


তিনি আরও বলেন, বিষয়টি একাধিকবার সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই যানজট বাড়ছে এবং জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।


যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন ট্রাক ও বাসচালক জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। এতে জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।


যাত্রীরা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।


এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এবং আমতলী অংশের সংস্কারকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

প্রধান উপদেষ্টা :
খান সেলিম রহমান (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা
উপদেষ্টাঃ
আওরঙ্গজেব কামাল- (সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার (সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির (দপ্তর সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ জাকির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক হাটিকুমরুল প্রেসক্লাব)
উপদেষ্টা: মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (সাংগঠনিক সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব)
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ সাইদুল ইসলাম আবির সম্পাদক খোলা বার্তা
বার্তা সম্পাদক: লাবনী খাতুন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ লুৎফর রহমান লিটন স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত প্রত্রিকা কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব

চেয়ারম্যানঃ মোঃ লুৎফর রহমান লিটন Email: dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৯০০৩৩৫৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা