দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যতদিন জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া



রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যতদিন জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যতদিন জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে। নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, আগামী তিন বছর কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া, ফলে এই সময়ের মধ্যে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকবে না।

তবে পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে মোট অর্থের ৯০ শতাংশই ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।



দেশের সবচেয়ে বড় একক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সুবিধা এর উচ্চ জ্বালানি দক্ষতা। যেখানে ১,০০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লার প্রয়োজন হয়, সেখানে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক কেন্দ্রে লাগে মাত্র প্রায় ২৭ টন ইউরেনিয়াম। একইভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এ কেন্দ্র বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় করবে।



প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এতে বহুস্তরবিশিষ্ট স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।



প্রায় ৬০ বছরের আয়ুষ্কাল নির্ধারিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও দীর্ঘ সময় চালু রাখা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে।



বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাড়ে চার গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে পারে। এক কেজি পারমাণবিক জ্বালানি প্রায় ৬০ টন তেল ও ১০০ টন কয়লার সমান শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।



যদিও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় নিরাপত্তা বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। জ্বালানি পেলেট বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় এবং জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের আবরণ দিয়ে তা সুরক্ষিত করা হয়।



উল্লেখ্য, রূপপুরে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যতদিন জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে। নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, আগামী তিন বছর কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া, ফলে এই সময়ের মধ্যে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকবে না।

তবে পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে মোট অর্থের ৯০ শতাংশই ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।



দেশের সবচেয়ে বড় একক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সুবিধা এর উচ্চ জ্বালানি দক্ষতা। যেখানে ১,০০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লার প্রয়োজন হয়, সেখানে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক কেন্দ্রে লাগে মাত্র প্রায় ২৭ টন ইউরেনিয়াম। একইভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এ কেন্দ্র বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় করবে।



প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এতে বহুস্তরবিশিষ্ট স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।



প্রায় ৬০ বছরের আয়ুষ্কাল নির্ধারিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও দীর্ঘ সময় চালু রাখা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে।



বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাড়ে চার গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে পারে। এক কেজি পারমাণবিক জ্বালানি প্রায় ৬০ টন তেল ও ১০০ টন কয়লার সমান শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।



যদিও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় নিরাপত্তা বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। জ্বালানি পেলেট বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় এবং জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের আবরণ দিয়ে তা সুরক্ষিত করা হয়।



উল্লেখ্য, রূপপুরে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক।


দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা

প্রধান উপদেষ্টা: খান সেলিম রহমান - প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, সম্পাদক জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা
উপদেষ্টা: আওরঙ্গজেব কামাল- সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব উপদেষ্টা : মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব উপদেষ্টা: শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির দপ্তর সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: মোঃ জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক হাটিকুমরুল প্রেসক্লাব
উপদেষ্টা: মোঃ মিজানুর রহমান মিজান সাংগঠনিক সম্পাদক সলঙ্গা প্রেসক্লাব
নির্বাহী সম্পাদক: এম.এ আরিফ চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত” পত্রিকা ও স্থায়ী সদস্য: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব প্রধান সম্পাদক: ডেইলি ঢাকা মেইল
সম্পাদক ও প্রকাশক:
মোঃ লুৎফর রহমান লিটন স্টাফ রিপোর্টার: "জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত প্রত্রিকা কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
Email dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল নম্বর ০১৭১১৪৫৪০১৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা