স্বামী হারানোর পর থেকেই তো দুনিয়াডা আমার কাছে অন্ধকার। তয় এই ভাঙা ঘরখানাই আছিল সম্বল। ঝড়ে তাও নিয়া গেল। এহন এই বয়সে ছাওয়া-পাইল নিয়ে কই যামু, কার দ্বারে হাত পাতমু?" কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা হাজেরা বেওয়া।চোখের পলকে প্রলয়ংকরী কালবৈশাখী ঝড় কেড়ে নিয়েছে তার মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু। বুধবার সন্ধ্যার সেই আকস্মিক ঝড়ে এখন তিনি খোলা আকাশের নিচে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।১৪ বছরের দীর্ঘ লড়াই ও শূন্যতার জীবনপ্রায় ১৪ বছর আগে স্বামী জামাত মণ্ডল মারা যান। রেখে যান ৫ কন্যাসন্তান আর চরম অভাবের সংসার। স্বামীর ভিটেমাটি বা নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তখন থেকেই অনিশ্চয়তা নিত্যসঙ্গী হয়েছিল হাজেরা বেওয়ার। জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ আর মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় তিলে তিলে মেয়েদের বড় করার লড়াই চালান তিনি। একপর্যায়ে এলাকার এক হৃদয়বান ব্যক্তি দয়া করে তাকে ১ শতাংশ জমি দেন। সেই জমিতে তেরপল ও বাঁশ-টিন দিয়ে কোনোমতে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর তৈরি করে মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়েছিলেন। গত এক যুগ ধরে এই ঘরেই রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে কোনোমতে দিন পার করছিলেন এই প্রবীণ নারী।ঝড়ের এক ঝাপটায় চুরমার স্বপ্নগত বুধবার সন্ধ্যার কালবৈশাখী ঝড় যেন সবকিছু ওলোটপালট করে দিল। মুহূর্তের মধ্যে উড়ে যায় ঘরের চালের টিন, ভেঙে পড়ে বাঁশের বেড়া। ঝড়ের তাণ্ডব থামলেও থামেনি হাজেরা বেওয়ার চোখের পানি। ভগ্নস্তূপের পাশে এখন তার একমাত্র সম্বল বলতে কিছু ছেঁড়া কাঁথা আর ভাঙা রান্নার হাঁড়ি-পাতিল। চারপাশ খোলা আকাশের নিচে এখন অসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় বসে দিন পার করছেন তিনি।সরকারি সহযোগিতার বাইরেই রয়ে গেলেন যিনিসমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন সরকারি সহায়তা বা ভূমিহীনদের জন্য গৃহায়ণ প্রকল্পের ঘোষণা প্রায়ই শোনা গেলেও দীর্ঘ ১৪ বছরেও কপালে জোটেনি কোনো সরকারি ঘর বা টেকসই অনুদান। স্থানীয়দের মতে, ভূমিহীন হাজেরা বেওয়ার মতো প্রকৃত অসহায় মানুষগুলোর কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো যেন পৌঁছায় না বললেই চলে।প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশাদিনমজুর ও সহায়-সম্বলহীন হাজেরা বেওয়ার এই দুর্দিনে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর সহানুভূতি। তীব্র রোদে ও রাতের শীতে খোলা আকাশের নিচে বয়োবৃদ্ধ এই নারীর বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে পুনর্বাসন করা হোক।এ বিষয়ে ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাজেরা বেওয়ার খোঁজখবর নিয়ে সরকারি ত্রাণ সহায়তা এবং গৃহ নির্মাণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।একজন অসহায় মায়ের এই ভাঙা কুঁড়েঘরটি কি আবার গড়ে উঠবে? সরকারি সাহায্য বা কোনো হৃদয়বান মানুষের উষ্ণ সহায়তার হাত কি পৌঁছাবে হাজেরা বেওয়ার কাছে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
স্বামী হারানোর পর থেকেই তো দুনিয়াডা আমার কাছে অন্ধকার। তয় এই ভাঙা ঘরখানাই আছিল সম্বল। ঝড়ে তাও নিয়া গেল। এহন এই বয়সে ছাওয়া-পাইল নিয়ে কই যামু, কার দ্বারে হাত পাতমু?" কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা হাজেরা বেওয়া।চোখের পলকে প্রলয়ংকরী কালবৈশাখী ঝড় কেড়ে নিয়েছে তার মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু। বুধবার সন্ধ্যার সেই আকস্মিক ঝড়ে এখন তিনি খোলা আকাশের নিচে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।১৪ বছরের দীর্ঘ লড়াই ও শূন্যতার জীবনপ্রায় ১৪ বছর আগে স্বামী জামাত মণ্ডল মারা যান। রেখে যান ৫ কন্যাসন্তান আর চরম অভাবের সংসার। স্বামীর ভিটেমাটি বা নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তখন থেকেই অনিশ্চয়তা নিত্যসঙ্গী হয়েছিল হাজেরা বেওয়ার। জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ আর মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় তিলে তিলে মেয়েদের বড় করার লড়াই চালান তিনি। একপর্যায়ে এলাকার এক হৃদয়বান ব্যক্তি দয়া করে তাকে ১ শতাংশ জমি দেন। সেই জমিতে তেরপল ও বাঁশ-টিন দিয়ে কোনোমতে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর তৈরি করে মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়েছিলেন। গত এক যুগ ধরে এই ঘরেই রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে কোনোমতে দিন পার করছিলেন এই প্রবীণ নারী।ঝড়ের এক ঝাপটায় চুরমার স্বপ্নগত বুধবার সন্ধ্যার কালবৈশাখী ঝড় যেন সবকিছু ওলোটপালট করে দিল। মুহূর্তের মধ্যে উড়ে যায় ঘরের চালের টিন, ভেঙে পড়ে বাঁশের বেড়া। ঝড়ের তাণ্ডব থামলেও থামেনি হাজেরা বেওয়ার চোখের পানি। ভগ্নস্তূপের পাশে এখন তার একমাত্র সম্বল বলতে কিছু ছেঁড়া কাঁথা আর ভাঙা রান্নার হাঁড়ি-পাতিল। চারপাশ খোলা আকাশের নিচে এখন অসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় বসে দিন পার করছেন তিনি।সরকারি সহযোগিতার বাইরেই রয়ে গেলেন যিনিসমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন সরকারি সহায়তা বা ভূমিহীনদের জন্য গৃহায়ণ প্রকল্পের ঘোষণা প্রায়ই শোনা গেলেও দীর্ঘ ১৪ বছরেও কপালে জোটেনি কোনো সরকারি ঘর বা টেকসই অনুদান। স্থানীয়দের মতে, ভূমিহীন হাজেরা বেওয়ার মতো প্রকৃত অসহায় মানুষগুলোর কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো যেন পৌঁছায় না বললেই চলে।প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশাদিনমজুর ও সহায়-সম্বলহীন হাজেরা বেওয়ার এই দুর্দিনে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর সহানুভূতি। তীব্র রোদে ও রাতের শীতে খোলা আকাশের নিচে বয়োবৃদ্ধ এই নারীর বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে পুনর্বাসন করা হোক।এ বিষয়ে ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাজেরা বেওয়ার খোঁজখবর নিয়ে সরকারি ত্রাণ সহায়তা এবং গৃহ নির্মাণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।একজন অসহায় মায়ের এই ভাঙা কুঁড়েঘরটি কি আবার গড়ে উঠবে? সরকারি সাহায্য বা কোনো হৃদয়বান মানুষের উষ্ণ সহায়তার হাত কি পৌঁছাবে হাজেরা বেওয়ার কাছে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন