সাটুরিয়া দরগ্রাম ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় ও জনমনে ক্ষোভ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আঃ মোতালেবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ভূমি সংক্রান্ত একটি কাজের জন্য এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে তার অর্থ দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সরকারি অফিসে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতির চিত্র দেখে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সেবাগ্রহীতার সাথে টাকার দরকষাকষি করছেন সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আঃ মোতালেব। কাঙ্ক্ষিত কাজ হাসিলের জন্য সাধারণ মানুষকে কীভাবে জিম্মি করা হয়, ভিডিওটিতে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও নিত্যদিনের হয়রানিদীর্ঘদিন ধরেই দরগ্রাম ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান:অতিরিক্ত অর্থ আদায়: সরকার নির্ধারিত ফি-তে এই অফিসে কোনো কাজই সম্পন্ন হয় না। নামজারি (মিউটেশন), জমির খাজনা প্রদান এবং পর্চা বা খতিয়ান উত্তোলনের মতো সাধারণ সেবার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফির বাইরে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করা হয়।ইচ্ছাকৃত কালক্ষেপণ: দাবিকৃত ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নথিপত্রে ভুল আছে, রেকর্ডে সমস্যা বা সার্ভার ডাউন—এমন নানা অজুহাতে দিনের পর দিন সেবাগ্রহীতাদের ঘোরানো হয়।দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য: অফিসের ভেতরে ও বাইরে একটি সক্রিয় দালাল চক্র কাজ করছে। সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার বদলে দালালদের মাধ্যমে চুক্তি করলে কাজ দ্রুত হয়, তবে সেক্ষেত্রে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।এসব গুরুতর অভিযোগ এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আঃ মোতালেবের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ইতোমধ্যেই আমার নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ভিডিওর সত্যতা এবং সার্বিক ঘটনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি আইন ও বিধি মোতাবেক ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"বর্তমান প্রশাসন যখন ভূমি সেবাকে দুর্নীতিমুক্ত ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, তখন একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড পুরো সেবা খাতের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দুর্নীতি বন্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী কর্মকর্তাকে বরখাস্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।