প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫
বিদেশিদের পরামর্শে শ্রম আইন পরিবর্তন করেছে সরকার
দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা নিউজ ডেক্স ||
বিদেশিদের পরামর্শে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সরকার একতরফাভাবে শ্রম আইন সংশোধন করছে বলে অভিযোগ করেছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে কেন একসঙ্গে ৪১ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি করা হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শ্রম আইনের বিষয়ে কথা বলতে গত ৪ মাস ধরে সময় চেয়েও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারিনি। ১০০ মিলিয়ন ডলারের স্টারলিংকের ভাইস চেয়ারম্যানকে তিনি সময় দেন, অথচ ৪০ বিলিয়ন ডলারের (পোশাক খাতের) প্রতিনিধিকে সময় দেন না। বর্তমান সরকার বিদেশিদের কথা মতো চলতে বেশি পছন্দ করে, তাই ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের সময় না দিয়ে বিদেশিদের সময় দিলে রপ্তানি বাণিজ্য যে ক্ষতি হবে তার দায় প্রধান উপদেষ্টাকেই নিতে হবে। নতুন শ্রম আইনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) ও ওয়ার্কিং কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিকের সংখ্যা ধাপে ধাপে নির্ধারণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। সেখানে প্রথম ধাপে ৫০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের কারখানায় ন্যূনতম ৫০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় একতরফাভাবে সেটি পরিবর্তন করে মাত্র ২০-৩০০ শ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ধাপ করা হয়েছে ৫টি।মাত্র ২০ জন শ্রমিক দিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠন করা হলে কারখানাগুলোতে এমন ব্যক্তিরা ট্রেড ইউনিয়ন করবেন, যারা ওই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। এটি কারখানাগুলোতে অন্তঃদ্বন্দ্ব ও শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে এবং উৎপাদন ব্যাহত করবে। আমরা চাই না, ঝুঁট ব্যবসায়ী, মেস ব্যবসায়ীরা ট্রেড ইউনিয়ন করুক। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমবে এবং উদ্যোক্তারা নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনায় নিরুৎসাহিত হবেন। এই সিদ্ধান্তকে ‘ভারসাম্যহীন’, ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’ বলে অভিহিত করেন বিজিএমইএ সভাপতি।অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনক হওয়ার পরও মাশুল বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়ার পাশাপাশি বন্দরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে তিনি জোর তাগিদ দেন। চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চলতি মাসেই বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সেবা ফি নেওয়া হয় ডলারে। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ২৯ দশমিক ৮৯ টাকা। বর্তমানে তা ১২২ টাকার বেশি হওয়ায় গত ৪০ বছর ধরে টাকার অঙ্কে তা ৩০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর গতবছরে দুই হাজার কোটি টাকার মতো মুনাফা করেছে। সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান তো মুনাফায় আছে। তাহলে কেন চার্জ বাড়ানোর প্রয়োজন ? আমরা বলেছি, আগে কনটেনার ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানো হোক। আমরা উপকারটি আগে পাই, তারপরে চার্জ বাড়ানো যেতে পারে। একসঙ্গে না বাড়িয়ে ধারবাহিকভাবে ১০ শতাংশ হারে বাড়ানো যেতে পারে। জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান (বাবলু), সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ); বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম; বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) সিইও মেজর জেনারেল (অব) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এবং বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যানরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
Email dailyalokitosolanga@gmail.com মোবাইল নম্বর ০১৭১১৪৫৪০১৮ কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আলোকিত সলঙ্গা