সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বানিয়াবউ এইচ.এস উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবনের বারান্দা থেকে
পড়ে মো. আরাফাত হোসেন (১২) নামের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের তিনতলার বারান্দা থেকে নিচে পড়ে এই
দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আরাফাত হোসেন উপজেলার নবীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম কুটির ছেলে। বর্তমানে তাকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজও আরাফাত বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। তবে ক্লাস শুরুর আগেই বিদ্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় হঠাৎ বিদ্যালয়ের তিনতলার বারান্দা থেকে নিচে পড়ে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেন। সেখানে
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে এ দুর্ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম অসচেতনতা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন আহত ছাত্রের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, স্কুল ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী বা রেলিংয়ের অভাব এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নজরদারির ঘাটতির কারণেই কোমলমতি শিশুরা প্রতিনিয়ত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকেরা সময়মতো উপস্থিত হন না; ঘটনার সময়ও প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে বানিয়াবউ এইচ.এস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান দুলাল বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না। সংবাদ পেয়ে সকাল ১০, ৩০ মিনিটের দিকে আমি বিদ্যালয়ে আসি।’ তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে বিদ্যালয় ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এই দুর্ঘটনার সাথে জড়িতদের অবহেলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন