শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ বন্ধ ও তিন দিনের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর আলটিমেটাম: জাতীয় শ্রমিক শক্তির সংবাদ সম্মেলন
চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বলপ্রয়োগ না করার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয় এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল হান্নান মাসুদ, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
মাজহারুল ফকির তার বক্তব্যে বলেন বিএনপি সরকার ৯ মাস আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করেছে, লীগের সাথে ঝুট ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা করেছে, এখন শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী খুঁজছে। শ্রমিকদের স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশের দায় সরকারের।
বিগত দিনগুলোতে আমরা দাবি করে আসছি মজুরি বোর্ড গঠন করে নতুন মজুরি নির্ধারন করতে, অথচ শ্রম মন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা ব্যর্থ শ্রম মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।
আগামী ৩ দিনের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারন করতে হবে।
সংগঠনটির সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ বলেন-
প্রশাসনের ভাইদের কাছে অনুরোধ, আপনারা শ্রমিকদের আন্দোলনে হামলা কইরেন না, আমরা আওয়ামী আমলের পুলিশ দেখতে চাইনা।
'প্রিয় শ্রমিক ভাইবোনেরা আপনারা ভয় পাবেন না, শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান করুন, আপনাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকার হামলা করলে সারাদেশের ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আপনাদের পাশে দাঁড়াবে।'
জাতীয় শ্রমিক শক্তির মুখ্য সংগঠক আরমান হোসাইন বলেন 'দলীয় বাহিনী ধারা শ্রমিকদের উপরে হামলার মাধ্যমে সরকার গঠিত মজুরি বোর্ড নিরপেক্ষতা হারিয়েছে,
অবিলম্বে হামলা কারী বিএনপি নেতা ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং গণ গ্রেফতার বন্ধ করে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।'
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক শেখ রুবেল বলেন 'শ্রমিকদেরকে কারখানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করিয়ে, গেটে সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন গার্মেন্টসে শ্রমিকদের উপর হামলা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।'
আবদুল হান্নান মাসুউদ, এমপি তার বক্তব্যে বলেন- 'সরকার ও মালিকপক্ষ মজুরিবোর্ড গঠনের নামে দলীয়করণ করে নিজেরদের লোক বসানো হয়েছে, শ্রমিক ভাইয়েরা এটা মানছেনা। বিভিন্ন সময়ে সরকারের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তের কারণে আন্দোলন এই পর্যায়ে গড়িয়েছে। শিল্প রক্ষার স্বার্থেই বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের দমনপীড়ন অব্যাহত থাকলে সাধারণ শ্রমিকদের এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর ও ভিন্ন রূপ নিতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে অতি দ্রুত সহনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বর্তমান বাজার ব্যবস্থার ঊর্ধ্বগতির সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য তাদের ন্যায্য মজুরি মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, শ্রমিকদের হয়রানিমূলক ‘ব্ল্যাকলিস্ট প্রথা’ চিরতরে বাতিলের জোরালো দাবি উত্থাপন করেন নেতৃবৃন্দ।