আশুলিয়ায় সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা ও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে, বিপরীতে ইটপাটকেল ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালায় আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এসময় সড়কের আগুন চালিয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা চালালো হয়। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের জলকামান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল আটটার পর থেকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের জামগড়া, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর কারখানার শ্রমিকরা শারমিন গ্রুপের সামনে জড়ো হয়। পৌনে নয়টা থেকেই চলছে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল আটটার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামীম গ্রুপসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এসে শারমিন গ্রুপের কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয়।
পুলিশের ধাওয়ার মুখে শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। শুরু হয় তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।
সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার কারণে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও নিরাপত্তা জোরদারে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। নরসিংহপুর এলাকায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের জলকামান।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে শ্রমিকদের, কারখানা কর্তৃপক্ষ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।