নাটোর লালপুর উপজেলায় গত তিনদিনের টানা ঝড় ও বৃষ্টিতে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির আমন ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঠিক ধান কাটার মাত্র এক সপ্তাহ আগে এমন আকস্মিক দুর্যোগে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। মাঠের পাকা ও আধা-পাকা ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়ার পাশাপাশি অনেক জমিতে পানি জমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা।উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেতের সোনালী ধান এখন মাটির সাথে মিশে আছে এবং অনেক জমিতে হাঁটু পানি জমে গেছে।জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতো ধান কাটার উৎসব। কিন্তু হঠাৎ এই দুর্যোগ তাদের সোনালী স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মহিষাখোলা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছিলেন। ধানও বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে তার ১ বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ হেলে পড়েছে এবং খেতে হাঁটু পানি জমেছে। দ্রুত পানি না সরালে এই ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে তার।একই গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, ঝড়ো বৃষ্টিতে তার ১০ কাঠা জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কালুপাড়া গ্রামের মো. ফরিদ হোসেন জানান, তার ১ বিঘা জমির পাকা ধান পানির মধ্যে নুয়ে পড়ে আছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ধানগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
কৃষকদের মতে, আবহাওয়া দ্রুত পরিষ্কার না হলে এবং জমি থেকে পানি না নামলে তাদের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে উপজেলায় ৯ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে এবং ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ২১৫ টন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, উপজেলায় এখনো পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়নি। তবে বুধবার থেকে টানা তিনদিনের বৃষ্টি ও ঝড়ে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত ও নুয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এই মুহূর্তে পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে গেলে নুয়ে পড়া ধান নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
তবে খেতে জমে থাকা পানি দ্রুত সরাতে না পারলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ ছাড়া, নুয়ে পড়া ধানগুলো একসাথে বেঁধে (গোছা করে) দেওয়ার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে