খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা রিজিয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক সিন্দুকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নাক্রাই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। সিন্দুকছড়ি জোন সদরের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন এম সোহান আল মাহমুদ (আরএমও)-এর নেতৃত্বে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ঋতু পরিবর্তন জনিত কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাধারণত দেখা যায় এমন বিভিন্ন মৌসুমি রোগ-যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। তা ছাড়া বাত ব্যাথা, এলার্জি ও চর্মরোগের উন্নত চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ডায়রিয়া, আমাশয় ও টাইফয়েডের মতো বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রতিরোধমূলক পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে আসা রোগীদেরও বিশেষ গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। দিন ব্যাপী এই ক্যাম্পেইনে এলাকার আনুমানিক ২০০ জন পাহাড়ি অসুস্থ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
এই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি সিন্দুকছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নেহাত ফয়সাল, পিএসসি,জি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কারবারি, হেডম্যান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নাক্রাই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পরিদর্শনকালে সিন্দুকছড়ি জোনের জোন কমান্ডার উপস্থিত সুবিধাভোগী, সাধারণ জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও ছাত্র-ছাত্রীদের দলমত নির্বিশেষে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সম্প্রীতির সাথে বসবাসের পরামর্শ দেন। একই সাথে তিনি সকলের সুস্থতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখতে সহযোগিতা চান। সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও জনস্বার্থমূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয় সুবিধাভোগীরা পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান। এ ছাড়াও এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নাক্রাই পাড়া ত্রি-মোড়ে একটি সৌর বিদ্যুতের বাতি স্থাপন, নাক্রাই পাড়া স্কুলের নিকটবর্তী খালের ওপর একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জন্য একটি সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অনুরোধ জানান।
স্থানীয় জনগণের উত্থাপিত দাবিসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সিন্দুকছড়ি জোন দুর্গম পার্বত্য এলাকার জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।