১২ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলের বেদুইন শহর রাহাত-এ ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়াইর গোলান এবং জয়েন্ট লিস্ট-এর নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণার বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন বেদুইন নারী। ছবি: রয়টার্স
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে মুসলিম ভোটাররা। সংখ্যালঘু আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়লে বদলে যেতে পারে সরকার গঠনের সমীকরণ।
ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে দেশটির আরব জনগোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম নেতারা। তাদের লক্ষ্য, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি সরকারের পতন ঘটানো।
সম্প্রতি জনমত জরিপ বলছে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট পেতে পারে ৫২টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোটের সম্ভাব্য আসন ৫০টি। সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১ আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে আপত্তি জানিয়েছেন আইজেনকট।
ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব। এই জনগোষ্ঠীর ভোটের হার বাড়লে নির্বাচনের ফল পাল্টে যেতে পারে। নেতানিয়াহুবিরোধী মতাদর্শীদের ধারণা, আরব ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি করা সম্ভব।
রাম পার্টির নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, ‘ডানপন্থি সরকারের পতন, যুদ্ধের অবসান, ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ এবং তাদের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অবসান চাই আমরা। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের জন্য যৌথ নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করবে এমন সরকার গঠনই আমাদের লক্ষ্য।’
নাজারেতের এক বাসিন্দা বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যায় ভোট দেয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। পরিবর্তন আনতে হলে ভোট দিতে হবে। কারণ, এবার ঝুঁকি আরও বেশি। ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিবর্তন নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব
এদিকে, আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে সরব নেতানিয়াহুর সমর্থকরা। প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে আরব নেতাদের ঘনিষ্ঠতা দেখাতে ব্যবহার করা হয়েছে সম্পাদিত ছবি ও এআই ভিডিও।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২২ ও ২০২০ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার আরব ভোটারদের উপস্থিতি ৫৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশ হতে পারে।
তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ও নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে সরকার গঠনের হিসাব। কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, এমনকি ২০২৭ সালে আবারও নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে।