সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়ন যমুনাব নদী ভাঙ্গন কবলিত দূর্গম চরাঞ্চল কাওয়াকোলায় মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে- ইউনিয়নে পুনর্নির্মিত কাওয়াকোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন করা হয়। এবং কাওয়াকোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চল পরিদর্শন করা হয়। সুইস রেডক্রসের সহায়তায়- বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বাস্তবায়নাধীন যমুনা প্রকল্পের আওতায় ক্লিনিকটি পুননির্মাণ করা হয়।
শনিবার (১৭অক্টোবর-২০২৬খ্রি.) সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত ৮নংকাওয়াকোলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মহেশকাংলায় দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করা হয়। এসময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্লিনিকটির উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নুরুল আমীন। তিনি ক্লিনিকটির পুনর্নির্মাণ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং স্থানীয় জনগণের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এসময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সিরাজগঞ্জ ইউনিটের যমুনা প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা,
৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন ঠান্ডু, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুল হুদা সহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, মাতব্বর, অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শারমিন খন্দকার বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিকটি নদীভাঙনের শিকার হওয়ার পর স্থানীয় জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। নতুন করে ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণের ফলে এলাকার মানুষ সহজে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা করছি।”
কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যমুনা প্রকল্প চরাঞ্চলের মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ অবদান রাখছে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান টিএম শাহাদাৎ হোসেন ঠান্ডু ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষেরা স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে উপকৃত হবেন ।
জানা যায় যে, ২০২৩ খ্রি. যমুনা নদীর ভাঙ্গনে কাওয়াকোলা কমিউনিটি ক্লিনিকটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে সয়াশিশা বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্থায়ী অবকাঠামোর অভাবে এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হতো।