জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকার এক ভাড়া বাসায় গৃহবধূ সাজেদা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জয়পুরহাট পৌর এলাকার খনজনপুর পূর্বপাড়া মহল্লার জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. রাব্বী হোসেন (২৮) এবং একই মহল্লার আনিসুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৭)।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. হাসিবুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই আসামিদের কড়া পুলিশ পাহারায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি এটিএম মিজানুর রহমান।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, শহরের জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের জানিয়ার বাগান এলাকায় একটি ৬ তলা ভবনে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন গৃহবধূ সাজেদা বেগম। তার স্বামী চাকরির সুবাদে সিলেটে অবস্থান করতেন এবং ছোট মেয়ে স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ালেখা করত। ওই স্কুলের কম্পিউটার অপারেটর আবু সাঈদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে সাজেদা বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে সাঈদ ও তার বন্ধু রাব্বী হোসেন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই জের ধরে ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে বাসায় সাজেদা বেগমকে একা পেয়ে মুখে স্কচটেপ মেরে ও হাত বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তারা।
ঘটনার দুদিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর নিহতের স্বামী হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্তকালে পুলিশ রাব্বী ও আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করলে রাব্বী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।