সোমবার ৭ সেপ্পম্বার ২০২৬দুপুরে
মাছের উৎপাদন বাড়ানো ও উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা এলাকার সিঙ্গার বিলে অবমুক্ত করা হয়েছে বিল নার্সারিতে উৎপাদিত প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার পোনামাছ। মাত্র এক কেজি রেণু মজুদ করে তিন মাস লালন-পালনের পর এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়। এতে সিঙ্গার বিলের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবীদের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় টিপনা এলাকায় ০.১৩ হেক্টর আয়তনের বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়। নার্সারিতে এক কেজি রেণু মজুদ করে টানা তিন মাস নিবিড়ভাবে লালন-পালন ও পরিচর্যা করা হয়। পরিচর্যার পর রেণু থেকে বেড়ে ওঠা প্রায় ৬৫-৭০ হাজার পোনামাছ সিঙ্গার বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে।
অবমুক্ত করা পোনামাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, পুঁটি ও গ্রাস কার্প। মৎস্য বিভাগের এ উদ্যোগের ফলে সিঙ্গার বিলে মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে বড় আকারের মাছের প্রাপ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিল নার্সারিটির তত্ত্বাবধান করেন স্থানীয় মৎস্যচাষী মো. ফজলুর রহমান শেখ (ফজলু)। তাঁর তত্ত্বাবধানে তিন মাস ধরে রেণুর পরিচর্যা ও পোনা উৎপাদনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পোনামাছ অবমুক্তকালে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান, ক্ষেত্র সহকারী পলাশ কুমার সেন, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মহসিন, জিএম নূর ইসলাম, জিয়াউর রহমান গাজী, শাহাজান ফকির এবং সফলভোগী মৎস্যচাষী মো. ফজলুর রহমান শেখসহ আরা অনেকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিল নার্সারিতে রেণু মজুদ করে নির্দিষ্ট সময় লালন-পালনের পর উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করা হলে জলাশয়ের মাছের মজুদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজননের সুযোগও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবীরা ভবিষ্যতে এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিতভাবে বিল নার্সারি স্থাপন, পোনা অবমুক্ত এবং মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষা করা গেলে সিঙ্গার বিল আবারও মাছের প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। এতে একদিকে যেমন এলাকার মানুষের মাছের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।