জয়পুরহাটে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ৪০০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে শহরের স্বপ্ন ছায়া কমিউনিটি সেন্টারে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ।
জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ার গাইডলাইন বিষয়ে বক্তব্য দেন ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মহিউদ্দিন খান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক আবু নাসির ত্বহা, গার্ডিয়ান পাবলিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ, ডা. জাকারিয়া জালাল এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি তারেক হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বক্তারা বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য নিশ্চিত হয় না। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নির্ধারণে নিজের আগ্রহ, দক্ষতা, যোগ্যতা ও সময়ের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এখন থেকেই নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।
তারা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজি ভাষা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সম্ভাবনা, দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং বিভিন্ন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল নিয়েও শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। বরং এখান থেকেই জীবনের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি শুরু হয়। তাই আবেগের বশবর্তী হয়ে বিষয় বা পেশা নির্বাচন না করে নিজের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে নিয়মিত অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ধরনের আসক্তি থেকে দূরে থেকে বই পড়া, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
পরে জেলার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ৪০০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেন।
আয়োজকরা জানান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণে অনুপ্রাণিত হবে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।